পরিবেশ ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই চট্টগ্রামের অন্যতম পর্যটন এলাকা আনোয়ারার পারকি সমুদ্র সৈকতে আটকে পড়া একটি জাহাজ ভাঙা হচ্ছে। জানা গেছে, এমভি ক্রিস্টাল গোল্ড নামের ঐ জাহাজটি ২০১৭ সালের ৩০ মে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র আঘাতে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গর থেকে পারকি সৈকতে গিয়ে আটকা পড়ে। উচ্চ আদালত থেকে নিলামে ক্রয় করে প্রায় দেড় বছর পর জাহাজটি কাটার কাজ শুরু করে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কদমরসুল এলাকার ফোরস্টার শিপ ব্রেকিং নামে একটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু জাহাজ কাটার ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর বা বিস্ফোরক অধিদপ্তরের অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া জাহাজ কেটে সৈকত এলাকা দূষণের দায়ে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটিকে ২ কোটি টাকা জরিমানা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে জাহাজ কাটা বন্ধ করার জন্য নোটিশ প্রদান করা হয়। তারপরও থেমে নেই জাহাজ কাটা। জাহাজ কেটে নামানো হচ্ছে আসবাবপত্রসহ নানা পণ্য। এরপর বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে জড়ো করা হয় আনোয়ারা চৌমুহনী এলাকার একটি দোকানে। এলাকাবাসীর কাছে অভিযোগ পেয়ে গতকাল রবিবার ঐ দোকান থেকে পুলিশ কিছু মালামাল উদ্ধার করেছে বলে জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুলাল মাহমুদ ইত্তেফাককে বলেন, আনোয়ারা চৌমুহনী এলাকার একটি দোকান থেকে কয়েক শ কেজি লোহার পাত উদ্ধার করা হয়েছে। চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক ইত্তেফাককে বলেন, উদ্ধার করা জিনিসগুলো ঐ জাহাজের কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, সৈকতে আটকে পড়া জাহাজটি নিয়ে আসলে দোটানায় রয়েছে প্রশাসন। সৈকতের পরিবেশ রক্ষায় জাহাজটি কেটে ফেলা প্রয়োজন। আবার জাহাজ কাটার জন্য শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে যে ধরনের প্রস্তুতি থাকে, পারকি সৈকতে তা না থাকায় পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘদিন সৈকতে আটকে থাকা ১০ হাজার মেট্রিক টন ওজনের জাহাজটির নিচের বেশ কিছু অংশ চরে ঢুকে গেছে। আবার সাগরের দিকে জাহাজের বেশ কিছুদূর পর্যন্ত চর তৈরি হয়েছে। জাহাজটির কারণে এলাকার ভাঙন তীব্র হয়েছে।
প্রসঙ্গত, পারকি সৈকতের উন্নয়নে পর্যটন করপোরেশনের নেওয়া ৬২ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। জাহাজ কাটার ফলে এই প্রকল্পের কাজও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
