এমপিওভুক্তি নিয়ে নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২০, ২২:৪৩

এমপিওভুক্তি নিয়ে লেজেগোবরে অবস্থায় আছে যশোর সদর উপজেলার বলরামপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। স্কুল এমপিওর তালিকাভুক্ত হলেও ভাগ্য খোলেনি শিক্ষক-কর্মচারীদের। গত বছর ২৩ অক্টোবর স্কুলটি তালিকাভুক্ত হলেও এমপিওতে নাম ওঠেনি কোনো শিক্ষক-কর্মচারীর। কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে উঠে এসেছে জাল-জালিয়াতি আর কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ। এসব অভিযোগের তদন্তে নেমেছে জেলা শিক্ষা অফিস।

সূত্র জানায়, ১৯৯৭ সালে বলরামপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি স্থাপনের পর থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে ১১ জন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক আজগর আলীসহ চার শিক্ষক-কর্মচারীকে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর বরখাস্ত করা হয়। জালিয়াতি ও নিয়োগ বাণিজ্য করে বাকি সাত শিক্ষকের সঙ্গে আরো ১১ জন শিক্ষক-কর্মচারীর নাম যুক্ত করে ১৮ জনের তালিকা এমপিওভুক্তির জন্য প্রেরণ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, এই ১১ জন শিক্ষক-কর্মচারীর কেউই বৈধভাবে প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হননি। স্কুল এমপিওভুক্ত হওয়ার পর চলতি বছর ‘ব্যাকডেটে’ বিভিন্ন সময়ে তাদের নিয়োগ দেখিয়ে জাল কাগজপত্র তৈরি করা হয়েছে। ঐ ১১ শিক্ষক-কর্মচারীর কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকার অর্থ বাণিজ্য করা হয়েছে। স্কুলের সভাপতি এম এম আকরাম হোসেনসহ একটি চক্র এই বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।  

স্কুলের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক আজগর আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তাকেসহ চার শিক্ষককে বরখাস্ত করার ঘটনায় তারা আদালতে মামলা করেছেন। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এম এম আকরাম বিশ্বাস বলেন, ‘গ্রুপিংয়ের কারণে স্কুল থেকে যারা বাদ পড়েছে, তারাই ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত ও অভিযোগ করছে। আমি এসব কিছু জানি না।’

এদিকে এ ঘটনায় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গত ৪ জুন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আব্বাস উদ্দীনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এই কমিটি তদন্ত শুরু করে অনেক তথ্য-উপাত্ত পায়। কিন্তু স্থানীয় সংসদ সদস্যর একটি ডিওর (উপ-আনুষ্ঠানিক পত্র)  পরিপ্রেক্ষিতে জেলা শিক্ষা অফিস ঐ তদন্ত কমিটি বাতিল করে ১৮ জুন নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করে। যশোর জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক গোলাম আযমের নেতৃত্বে এই নতুন কমিটির তদন্ত এখন চলমান।