কোভিড-১৯ মোকাবিলায় প্রযুক্তির ব্যবহার

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২০, ২১:০৩

করোনাভাইরাস মহামারীর (কোভিড -১৯) বিস্তার রোধ করতে এবং একই সাথে রোগীদের চিকিত্সা এবং স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের উপরে পড়া বারতি চাপ লাঘব করার উদ্দেশ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন কার্যকর ভ্যাকসিন তৈরীর প্রচেষ্টাও অব্যাহত আছে বেশ কিছু দেশে। বাংলাদেশেও গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এই ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। মোবাইল ফোনের অবস্থান নির্ণয় করে সংক্রমিত রোগীদের চিহ্নিত করা, তা’দের গতিবিধি অনুসরণ করা, এবং হালের করোনা ট্রেসার বিডি নামক মোবাইল অ্যাপের সাহায্যে ব্যবহারকারীকে সাবধান করা ও জোনাল তথ্য সঙ্কলন করা ইত্যাদি পদ্ধতি অবলম্বন করে এই মহামারী রোধের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

আধুনিক প্রযুক্তিসমূহের সঠিক প্রয়োগ করে কিভাবে এ ধরণের ভাইরাস ও মহামারী মোকাবেলা করা যেতে পারে, তা’ দেখা যাক।

 

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা

তথ্য বিশ্লেষণ বা অ্যানালেটিক্স-এর ব্যবহার মহামারীর প্রকোপ রোধে খুব গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। এর ফলে রোগের প্রাদুর্ভাব দমন করা সহজসাধ্য তো হয় বটেই, অনেক প্রাণহানিও থামানো যেতে পারে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স-এর সাহায্যে বিজ্ঞানীরা মহামারীর বিস্তার অনুসরণ করে পরবর্তীতে কোথায় বা কোন সময়ে ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিতে পারে, সেই পূর্বাভাস করতে পারেন, এবং কর্তৃপক্ষকে তদানুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরামর্শ দিতে পারেন।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেল্র প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করা যায়, এবং এর ফলশ্রুতিতে সম্ভাব্য নতুন রোগীর সংখ্যার পূর্বাভাস দেওয়া যায়।  এছাড়াও কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা সম্বলিত রোবট বা ড্রোন-এর সাহায্যে ওষুধ ও চিকিত্সা সরঞ্জাম বিতরণ, হাসপাতালকে জীবাণুমুক্তকরণ, অনুমোদিত ডাটাবেজ থেকে ওষুধ নির্ণয়করণ যা কোভিড-১৯ চিকিত্সায় কাজে লাগতে পারে ইত্যাদি কাজ করা যায়। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তির সাহায্যে নতুন অণু চিহ্নিত করা হয়েছে, যা বিজ্ঞানীদেরকে নভেল করোনাভাইরাসের RNA-র কাঠামোকে বুঝতে সক্ষম করবে এবং হয়তো বা এই ভাইরাস প্রতিরোধের ওষুধ তৈরিতেও ভূমিকা রাখবে।

 

ব্লকচেইন

ব্লকচেইন অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে সুলভে ও কম খরচে জোড়ালো ও স্বচ্ছ পদ্ধতি অবলম্বন করা যায়। এর ফলে জরুরী অবস্থার সময়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে এটি বেশ কার্যকরী। বর্তমান কোভিড-১৯ মহামারীর ব্যাপকতা কমাতে এই প্রযুক্তির সাহায্যে সংক্রমণের বিস্তৃতি অনুসরণ করা, চিকিত্সা সরঞ্জাম ও ওষুধের সরবরাহ ঠিক রাখা, বিভিন্ন অনুদান বা অর্থসাহায্যের ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

ব্লকচেইন পদ্ধতিতে ‘লেজার’ বা খতিয়ান তৈরি করে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ও গতিবিধির বিষয়ে ওয়াকিবহাল থাকা যায়। এই লেজার যেহেতু বন্টিত বা ডিস্ট্রিবিউটেড অবস্থায় থাকে, সেহেতু এটি থাকে সুরক্ষিত। এছাড়া এই লেজার দিনে কয়েক শ’ বার নবায়ন হতে থাকে বলে এর সঠিকতা সবসময়েই বজায় থাকে।

 

টেলিহেল্থ প্রযুক্তি

কোভিড-১৯ মহামারীকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্বের বেশীভাগ দেশে লকডাউন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। রোগীর কাছে সঠিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতেও বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই অবস্থায় টেলিহেল্থ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ডাক্তারী পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে রোগীর কাছে। লকডাউনে ঘরে বসেই স্বাস্থ্য-বিষয়ক পরামর্শ পাওয়ার কারণে সবাইকে হাসপাতালে ভিড় জমাতে হচ্ছে না।

টেলিহেল্থ চিকিত্সায় অডিও ভিজুয়াল, রিয়েল-টাইম, দ্বিমুখী ইন্টারেক্টিভ যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে চিকিত্সকগণ স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকেন। কম্পিউটারের ভেবক্যাম বা স্মার্টফোনের ক্যামেরা ব্যবহার করে ডাক্তার রোগীকে দেখতে পান এবং কথোপকথন করতে পারেন। এছাড়াও এই প্রযুক্তিতে চ্যাট ও বিশেষ অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

 

ত্রিমাত্রিক বা থ্রী-ডি প্রিন্টিং

কম পরিমানে কোন জিনিস তৈরিতে থ্রী-ডি প্রিন্টিং-এর সাহায্য নেওয়া যায়। কোভিড-১৯ মহামারীতে অবস্থার প্রয়োজনে নানান ধরণের চিকিত্সা-সামগ্রীর যন্ত্রাংশ এই প্রক্রিয়ায় তৈরী করা সম্ভব হচ্ছে। ভেন্টিলেটরের ভাল্ভ, কোভিড-১৯ টেস্ট-কিট, ফেসমাস্ক-এর কীলক, শ্বাস-প্রশ্বাসের ফিল্টার ইত্যাদি তত্ক্ষণাত্ বানিয়ে নেওয়া যায় থ্রী-ডি প্রিন্টারের সাহায্যে।

 

ড্রোন

হাসপাতাল, অফিস বা যেকোন জনসমাগমস্থলকে জীবাণুমুক্ত করণে ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়াও কোয়ারন্টাইন্ড এলাকাসমূহে চিকিত্সা-সামগ্রী, ওষুধপত্র ইত্যাদি দ্রুত পৌঁছে দিতেও ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে রাখতেও এই ড্রোনের ব্যবহার হচ্ছে। সংক্রমিত জনগোষ্ঠির গতিবিধি নজরদারীতে রাখতেও এই স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র ব্যবহূত হচ্ছে।