ইউপি চেয়ারম্যানের দায় স্বীকার
সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা
সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ফোর্ডনগরে ধলেশ্বরী নদীর পাড় ভরাট করে সড়ক নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আকতার ফার্নিচার ও এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, এলাকায় ঐ ফার্নিচার মালিকের জমি থাকলেও সেখানে যানবাহন চলাচলের উপযোগী সড়ক নেই। জনবসতি না থাকায় সরকারিভাবে সড়ক নির্মাণের প্রকল্প দেওয়াও সম্ভব নয়। তাই ঐ ব্যবসায়ীর স্বার্থে ফোর্ডনগর খেয়াঘাটের দক্ষিণ থেকে উত্তর দিকে নদী থেকেই বালু তুলে পাড় ভরাট করে সরকারি প্রকল্প ছাড়াই ২০ থেকে ২৫ ফুট প্রস্তের কাঁচা সড়ক নির্মাণের কাজ হাতে নিয়েছেন ধল্লা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম ভুঁইয়া। কাজও প্রায় শেষের দিকে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, যেহেতু নদী তাই ঐ সড়ক নির্মাণে তার দপ্তর থেকে কোনো প্রকল্প দেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানই বলতে পারবেন কীভাবে তিনি সড়ক নির্মাণ করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ওহাব খান এবং সার্ভেয়ার আব্দুল মজিদ মোল্লাসহ এলাকাবাসী জানান, নদী ভরাট করেই সড়ক হচ্ছে। সরকারি লোক জন এসে দেখেও গেছেন। কিন্তু সবাই চুপচাপ। এই রাস্তার পাশে খাস জমি ও নদী সিকস্তি। এই সড়ক ইউপি চেয়ারম্যান আর আকতার ফার্নিচারের স্বার্থ ছাড়া জনগণের কোনো উপকারে আসবে না। এছাড়া আকতার ফার্নিচারের কারখানাও খাস জমিতে। ফোর্ডনগরের মুস্তাফিজুর রহমান খান মুকুল ও ধল্লার পারুল আক্তার বলেন, সড়ক নির্মাণে তাদের জমির মাটি জোর করে কেটে নেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, নিজস্ব জমির সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যেই অবৈধভাবে সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। আকতার ফার্নিচার কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান এ সড়ক নির্মাণ করে দিচ্ছেন।
প্রকল্প ছাড়াই নদী ভরাট করে সড়ক নির্মাণের কথা স্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, ‘কোনো ব্যক্তির নয় জনগণের স্বার্থে সড়ক নির্মাণ করছি। এটা মানবিকভাবে দেখা উচিত্। কাজ শেষ হওয়ার পর কোনো একটি প্রকল্পে এ সড়কটি অন্তর্ভুক্ত দেখিয়ে দিব। নিজস্ব তহবিল ও স্থানীয় লোকজনের দেওয়া টাকা দিয়ে এ সড়ক নির্মাণ করছি। ধল্লা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। একই কথা জানান মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন।
