উন্নয়ন প্রকল্পে রিজার্ভ থেকে ঋণ নেওয়ার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২০, ২২:৩৩

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ঋণ নেওয়া যায় কি না, সে বিষয়টি যাচাই করার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সোমবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক শেষে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এ তথ্য জানান। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, একটা যুগান্তকারী প্রস্তাব এসেছে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে। আমরা এটাকে সমর্থন করি। এখন সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। জনগণের অর্থ, জনগণের সঞ্চয় তাদের কল্যাণে ব্যয় হবে। এ জন্য যে নিয়ম-কানুন ও নীতিমালা প্রয়োজন, সেগুলো আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং অর্থমন্ত্রণালয় দেখবে। আমরা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে অবশ?্যই সহায়তা করব। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আমদানির জন্য যুক্তিসঙ্গত সংরক্ষণ রেখে বাকি টাকা আমাদের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন মেটাতে পারি।’ বাংলাদেশ ব্যাংক চিন্তা করবে, কীভাবে এটা করা যায়। সাধারণত তিন মাসের আমদানি ব্যয় হাতে রাখা যে কোনো অর্থনীতির জন্য স্বস্তিদায়ক। এখন বাংলাদেশের যে রিজার্ভ আছে, সেটা তিন মাস নয়, এক বছরের আমদানি ব?্যয়ের দায় মেটানো সম্ভব।

গতকাল সোমবার ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী গণভবন থেকে এবং একনেক সংশ্লিষ্টরা শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষ হতে এই বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক শেষে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী প্রকল্পগুলোর বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। একনেক সভায় মোট ২ হাজার ৭৪৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ৬টি সংশোধিত আকারে অনুমোদিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনের বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, এত ঘন ঘন সেতু হচ্ছে তাতে পরিবেশ ও নদীর গতিপথের বিষয়ে সাবধান হতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে এলজিইডি, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ সকলকে নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এখানে সেখানে, পথে পথে আর সেতু করা যাবে না।

একনেক সভায় ৬৫৬৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ইনস্টলেশন অব ডিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপ লাইন (২য় সংশোধিত) প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় বাড়ছে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, চায়না এক্সিম ব্যাংক হতে প্রকল্পটিতে ঋণ পেতে দীর্ঘসময় অতিবাহিত হয়েছে। তাছাড়া ডলারের দাম বৃদ্ধিসহ নানা কারণে প্রকল্পটির ব্যয় ও মেয়াদ বেড়েছে।

সভায় অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো ২৯৫৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে ঘোড়াশাল ৩য় ইউনিট রিপাওয়ারিং (১ম সংশোধিত) প্রকল্প, ১৭৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নওগাঁ জেলার ধামুরহাট, পত্নীতলা ও মহাদেবপুর উপজেলাধীন ৩টি প্রকল্পের পুনর্বাসন এবং আত্রাই নদীর ড্রেজিংসহ তীর সংরক্ষণ প্রকল্প, ৩২৭ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে দিনাজপুর শহর রক্ষা প্রকল্পের পুনর্বাসন এবং দিনাজপুর শহর সংলগ্ন ঢেলা ও গর্ভেশ্বরী নদী সিস্টেম ড্রেজিং/খনন প্রকল্প, ৮৮৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় পাঁচপীর বাজার-চিলমারী উপজেলা সদর দপ্তরের সঙ্গে সংযোগকারী সড়কে তিস্তা নদীর ওপর ১৪৯০ মি. দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প, ১৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে রূপগঞ্জ জলসিঁড়ি আবাসন সংযোগকারী সড়ক উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প, ৫০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে জামালপুর ও শেরপুর জেলার পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প, ১০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলাধীন ডাকাতিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্প এবং ৬৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে গ্লোবাল মেরিটাইম ডিসট্রেস অ্যান্ড সেফটি সিস্টেম অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড মেরিটাইম নেভিগেশন সিস্টেম (২য় সংশোধিত) প্রকল্প।