এমপি পাপুলের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে ---------সিআইডি প্রধান

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২০, ২২:৩৭

সিআইডি প্রধান ও অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে কুয়েতে গ্রেফতার লক্ষ্মীপুরের সংসদ সদস্য শহীদুল ইসলাম পাপুলের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। তিনি বলেছেন, সাক্ষ্য-প্রমাণসহ আমরা সব বলব, ধৈর্য ধরুন। গতকাল সোমবার মালিবাগের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। লিবিয়ায় মানব পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান বলেন, এখন বিষয়টি আন্তর্জাতিক ইস্যু। তাই অনেক বিষয় বিবেচনা করে কাজ করতে হচ্ছে। আশা করি, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে আমরা এ বিষয়ে শিগগিরই জানাতে পারব।

তিনি বলেন, মানব পাচারকারীদের বিষয়ে সরকারের দুটি মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে আমরা দুটি তালিকা পেয়েছি। এ ছাড়া পাচার হওয়া ভুক্তভোগী, তাদের পরিবার ও বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের কাছ থেকে অনেক নাম পাওয়া গেছে। তাদেরও আমরা নজরদারিতে রেখেছি।

সিআইডি প্রধান বলেন, লিবিয়ায় মানব পাচারের ঘটনায় ২৬ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশের বিভিন্ন থানায় ২৬টি মামলা হয়েছে যার মধ্যে ১৫টি মামলার তদন্ত করছে সিআইডি। এসব মামলায় এ পর্যন্ত ৬৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে সিআইডি ৩৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। একজন পিয়নের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকা পাওয়া  গেছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় জড়িত তিন গডফাদার সম্পর্কে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। তাদের ধন-সম্পদেরও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই আমরা কিছু বলতে চাচ্ছি না।

মাহবুবুর রহমান বলেন, সিআইডির তদন্তকে আগের চেয়ে গতিশীল করার কাজ চলছে। এর আগে মামলাগুলোর ক্ষেত্রে ৬০ বা ৭০ শতাংশ মৌখিক স্বীকারোক্তির ওপর নির্ভর করতে হতো সিআইডিকে। কিন্তু এখন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ফরেনসিক সাক্ষ্যের ওপর নির্ভর করার চেষ্টা চলছে। তিনি আরো বলেন, সিআইডি একটি সাইবার থানা স্থাপন করবে। ঢাকায় থানাটি স্থাপন করা হলেও সারাদেশ থেকে অনলাইনে এই থানায় অভিযোগ দায়েরের সুযোগ পাবেন ভুক্তভোগীরা।

গত ৬ জুন কুয়েতে পাপুলকে গ্রেফতার করা হয়। মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানির অন্যতম মালিক পাপুলের কুয়েতে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি রয়েছে। পাচারের শিকার পাঁচ বাংলাদেশির অভিযোগের ভিত্তিতে পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচার, অর্থপাচার ও ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগ এনেছে কুয়েতি প্রসিকিউশন। আটকের পরদিন থেকে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।