মৃতের সংখ্যা কমেছে বেড়েছে সুস্থতা

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২০, ২২:৩৭

দেশে করোনা শনাক্তের ১২১তম দিনে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে, বেড়েছে সুস্থতার হার। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৪৪ জন। রবিবারের চেয়ে গতকাল ১১ জন কম মারা গেছেন। রবিবার ৫৫ জন মারা যান। এ পর্যন্ত দেশে করোনা ভাইরাসে মারা গেছেন ২ হাজার ৯৬ জন। শনাক্তের বিবেচনায় গতকাল মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৭ শতাংশ।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা ভাইরাসসংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন হেলথ বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল এবং বাসায় মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৫২৪ জন। রবিবারের চেয়ে গতকাল ১ হাজার ৬২০ জন বেশি সুস্থ হয়েছেন। রবিবার সুস্থ হয়েছিলেন ১ হাজার ৯০৪ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৭৬ হাজার ১৪৯ জন। তিনি জানান, গতকাল শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪ হাজার ২৪৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩ হাজার ২০১ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। রবিবারের চেয়ে গতকাল ৪৬৩ জন বেশি শনাক্ত হয়েছেন। রবিবার ১৩ হাজার ৯৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছিলেন ২ হাজার ৭৩৮ জন। তিনি জানান, দেশে এ পর্যন্ত মোট ৮ লাখ ৬০ হাজার ৩০৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬১৮ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মোট পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৪৭ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ১৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে গতকাল শনাক্তের হার ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।

ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, ‘করোনা ভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৫ হাজার ২০১ জনের। আগের দিন সংগ্রহ করা হয়েছিল ১৩ হাজার ৯৬৪ জনের। রবিবারের চেয়ে গতকাল ১ হাজার ২৩৭ জনের নমুনা বেশি সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৬৯টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৪ হাজার ২৪৫ জনের। আগের দিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ১৩ হাজার ৯৮৮ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় আগের দিনের চেয়ে ২৫৭ জনের বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন তাদের ৩৩ জন পুরুষ, ১১ জন নারী। ১৭ জন ঢাকা বিভাগের, ১১ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, তিন জন রাজশাহী বিভাগের, দুই জন খুলনা বিভাগের, চার জন বরিশাল বিভাগের, তিন জন সিলেট বিভাগের, দুই জন রংপুর বিভাগের এবং দুই জন ময়মনসিংহ বিভাগের। ৩৫ জন মারা গেছেন হাসপাতালে এবং ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বাসায়। দেশে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুও রেকর্ড আছে ৬৪ জনের। সেই তথ্য জানানো হয় ৩০ জুনের বুলেটিনে। সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড ৪ হাজার ১৯ জনের, যা জানানো হয় ২ জুলাইয়ের বুলেটিনে।

২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে এক জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ছয় জন, ৬১  থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ছয় জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৩ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে দুই জন এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে এক জন রয়েছেন।

ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, ‘ঢাকা মহানগরীতে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৬ হাজার ৭৫টি, আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ১৪৯টি। সারা দেশে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ১৪ হাজার ৭৭৫টি, আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ৪০১টি। সারা দেশে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংখ্যা ১১ হাজার ৭৮৫টি। সারা দেশে হাই ফ্লো নেজাল ক্যানেলা সংখ্যা ২০৩টি এবং অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ১০৬টি। সারা দেশে সাধারণ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ৪৪৯ জন, আইসিইউ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ২২০ জন এবং ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৭১৫ জন, ছাড় পেয়েছেন ৬৪৪ জন।

তিনি বলেন, আইসিইউতে বেড খালি থাকলেও চিকিত্সাগত কারণে এক বিভাগের রোগীকে অন্য বিভাগের আইসিইউতে চিকিত্সা দেওয়া যায় না, যার কারণে অনেক বিভাগে আইসিইউতে বেড খালি থাকে। তিনি জানান, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে বেড সংখ্যা প্রত্যেক বিভাগ অনুযায়ী ভাগ করা আছে। যেমন মেডিসিন, সার্জারি ও গাইনি বিভাগের এবং অন্য বিভাগের জন্য। অনেক সময় মেডিসিন বিভাগের রোগী বেশি থাকলেও অন্য বিভাগে যেমন সার্জারি ও গাইনি বিভাগের আইসিইউর বেড খালি থাকলেও সেখানে দেওয়া যায় না। কারণ সার্জারি ও গাইনি বিভাগের রোগীদের জন্য যে আইসিইউ ব্যবস্থা, সেখানে অনেক সময় অপারেশনের রোগী থাকে। সেজন্য মেডিসিন আইসিইউ বিভাগের চাহিদা থাকলেও গাইনি ও সার্জারি বিভাগের আইসিউ থাকলেও চিকিত্সাগত কারণে রোগী দেওয়া যায় না। সেজন্য আইসিইউর শয্যা খালি থাকলেও সেখানে রোগী দেওয়া যায় না।