শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার চার বছর আজ

মামলায় অভিযোগ গঠন হলেও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়নি

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২০, ২২:৪৪

শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার চার বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ মঙ্গলবার। ২০১৮ সালের ২৮ নভেম্বর কিশোরগঞ্জের সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে আসামিদের উপস্থিতিতে এই মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য একাধিকবার তারিখ ধার্য করা হয়। কিন্তু স্থানীয় একজন বাদে বাকি আসামিরা হলি আর্টিজান মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় দেশের বিভিন্ন কারাগারে অবস্থান করায় ধার্য তারিখে তাদের কিশোরগঞ্জ আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি। ফলে এখনো সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করা সম্ভব হয়নি। মামলায় মোট ১০২ জনকে সাক্ষী করা হয়।

২০১৬ সালের ৭ জুলাই ঈদুল ফিতরের দিনে সকাল পৌনে ৯টার দিকে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহে নামাজ শুরুর সোয়া এক ঘণ্টা আগে ঈদগাহের অদূরে মুফতি মোহাম্মদ আলী মোড়ে পুলিশের চেকপোস্টে জঙ্গিরা গ্রেনেড, হাতবোমা, আগ্নেয়াস্ত্র ইত্যাদি নিয়ে হামলা চালায়। এই হামলার সময় জঙ্গিদের চাপাতির কোপে পুলিশ কনস্টেবল জহিরুল ইসলাম ও আনোয়ারুল হক এবং তাদের নিক্ষিপ্ত গুলিতে ঝর্ণা রাণী ভৌমিক নামে এক গৃহবধূ ঘটনাস্থলে নিহত হন। তাছাড়াও পুলিশের গুলিতে জঙ্গি আবির রহমান ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

 এ ঘটনায় পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ শামসুদ্দিন বাদী হয়ে তিন জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো কিছু সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের বিভিন্ন ধারায় কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে দীর্ঘ তদন্তশেষে ২০১৮ সালের ২৬ জুলাই পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আরিফুর রহমান মোট পাঁচ জন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। অভিযুক্তরা হলো—জাহিদুল হক ওরফে তামিম, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী ওরফে সুভাষ ওরফে জাহিদ, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, মো. আনোয়ার হোসেন ও মো. আব্দুস সবুর খান হাসান ওরফে সোহেল মাহফুজ ওরফে মুসাফির ওরফে জয় ওরফে নুরুল্লাহ। তন্মধ্যে জাহিদুল হক ওরফে তামিম স্থানীয় এবং তাকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয়। বাকিরা বিভিন্ন স্থানে গ্রেফতার হওয়ার পর এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

কিশোরগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শাহ আজিজুল হক জানান, মামলাটি এখন বিচারের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কারণে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এই মামলার বিচারকাজও আপাতত বন্ধ রয়েছে। স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসলে চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে দ্রুত এই মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন করা হবে। রাষ্ট্রপক্ষ আশাবাদী যে, আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হবে এবং আসামিরা সর্বোচ্চ শাস্তি ভোগ করবে।