পরীক্ষা না করেই ‘নেগেটিভ’ বা ‘পজিটিভ’ রিপোর্ট দিত করোনা রোগীদের—এমন গুরুতর অভিযোগ পেয়ে গতকাল সোমবার রাতে রাজধানীর উত্তরা ও মিরপুরে রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালায় র্যাব। অভিযানে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বলে জানিয়েছেন র্যাবের ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্টেট সারোয়ার আলম। তিনি বলেন, ১৪টি অভিযোগ নিয়ে অভিযান শুরুর পর আরো ২৮টি একই ধরনের রিপোর্ট পাওয়া গেছে। রোগীদের নমুনা নেওয়া হলেও কোন পিসিআর ল্যাব থেকে সেগুলো পরীক্ষা করা হয়নি। কিন্তু রোগীদের ‘নেগেটিভ’ বা ‘পজেটিভ’ রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে।
শুধু ভুয়া রিপোর্টই নয়, রোগীদের জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগও এসেছে রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে। করোনা হয়নি, এমন মানুষকে ‘পজেটিভ’ রিপোর্ট দিয়ে জোর করে হাসপাতালে ভর্তির অভিযোগও আছে। অবসরপ্রাপ্ত একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, গত জুনের মাঝামাঝি করোনা টেস্ট করতে মিরপুরের রিজেন্ট হাসপাতালে যান তিনি। পরীক্ষার পরদিন তাকে জানানো হয় তিনি পজেটিভ। দ্রুত তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের নমুনা পরীক্ষা করতে বলা হয়। মোট চারজনের পরীক্ষা করতে নেয় ২৪ হাজার টাকা। এরপর স্বামী-স্ত্রী ও ছেলের রেজাল্ট পজেটিভ বলা হয়। তাদের তিনজনকেই ভর্তি করা হয় সেখানে। তাদের কোন উপসর্গ না থাকলেও অনেকটা বাধ্য করে ৭ দিন সেখানে রাখা হয়। এরপর তাদের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা বিল নেওয়া হয়।
রোগীদের কাছ থেকে এ ধরনের বিভিন্ন অভিযোগ পেয়ে র্যাব রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় একযোগে অভিযান চালায়। অভিযানে হাসপাতালের ৮ জনকে আটক করা হয়েছে। কোভিড-১৯ চিকিত্সার জন্য হাসপাতালটি ডেডিকেট করা হলেও অনেক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম জানান, করোনার টেস্ট না করেই রিপোর্ট দিতো রিজেন্ট হাসপাতাল। অভিযানে অসংখ্য ভুয়া রিপোর্টের কাগজ, বিলসহ নানা জিনিস জব্দ করা হয়েছে। হাসপাতালটির নিবন্ধনের মেয়াদও ২০১৪ সালে শেষ হয়েছে। তবে সমপ্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এটিকে কোভিড বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসাবে অনুমোদন দিয়েছে। কিভাবে এই অনুমোদন দেওয়া হলো সে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। অভিযানকালে হাসপাতালটির নোংরা পরিবেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় অক্সিজেন সিলিন্ডার দেখা যায়।
সারোয়ার আলম জানান, সরকারিভাবে যে টেস্টগুলো ফ্রি করার কথা সেই টেস্টের জন্য রিজেন্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাড়ে তিন হাজার টাকা করে নিচ্ছে। সবচেয়ে জঘন্য যে কাজটি তারা করে তা হলো টেস্ট না করে রিপোর্ট দেওয়া এবং ভুয়া সিল ও প্যাড ব্যবহার করা। তারা সরকারের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে আবার রোগীদের কাছ থেকেও মোটা অংকের বিল নিচ্ছে।
এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে গ্রেফতার না দেখানো হলেও হাসপাতালের আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে হেফাজতে নিয়েছে র্যাব। প্রাথমিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তারা দাবি করেছেন, ভুয়া রিপোর্টের বিষয়ে কিছুই জানতেন না তারা। অভিযান চলাকালে র্যাব হাসপাতালের চেয়ারম্যানকে উপস্থিত হতে বললেও তিনি উপস্থিত হননি।
