বিরোধপূর্ণ লাদাখ সীমান্ত থেকে সৈন্য সরিয়ে নিতে শুরু করেছে চীন ও ভারত। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিডিও কলে সৈন্য সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছান। লাদাখের গালওয়ান নদী উপত্যকার আশপাশের এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কিছু অস্থায়ী কাঠামোও। ঐ এলাকায় ভারত ও চীনা সেনাদের মধ্যে একটি ‘বাফার জোন’ তৈরি করা হয়েছে। এদিকে ভুটানের একটি অভয়ারণ্যে সার্বভৌমত্বের দাবি করেছে চীন। খবর বিবিসি ও এনডিটিভির
দিল্লিতে উচ্চপদস্থ একাধিক ভারতীয় কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবিসিকে বলেছেন, লাদাখ সীমান্তের তিনটি জায়গা থেকে চীনা ও ভারতীয় সৈন্যরা মুখোমুখি অবস্থা থেকে পিছিয়ে গেছে। তারা বলেছেন, সীমান্তে গালভান, গোগরা ও হট-স্প্রিং এলাকায় দুই পক্ষই অন্তত এক কিলোমিটার করে পিছিয়ে গেছে। একজন কর্মকর্তা বলেন, দুই দেশের সৈন্যরা গত বেশ কিছুদিন ধরে যেভাবে ‘চোখে চোখ রেখে’ অবস্থান করছিল, এখন আর সেই পরিস্থিতি নেই। তিনি বলেন, সোমবার সকাল থেকে উত্তেজনা প্রশমনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে প্রক্রিয়া ধীরগতিতে এগোচ্ছে। আরেক কর্মকর্তা বলেন, তিনটি পয়েন্ট থেকে তাঁবু ও অস্থায়ী স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়েছে এবং সৈন্যরা পেছনের দিকে সরে আসছে। তবে তার অর্থ এই নয় যে সৈন্য প্রত্যাহার করা হচ্ছে অথবা এই দফায় সংকটের ফয়সালা হয়ে যাচ্ছে। ভারতীয় কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, লাদাখে স্পর্শকাতর ডেপসাং ও পানাং সো হ্রদের পরিস্থিতির কোনো বদল হয়নি। লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনা হ্রাস নিয়ে চীনের কাছ থেকে এখনো কিছু জানা যায়নি।
ভুটানের অভয়ারণ্যে সার্বভৌমত্ব দাবি চীনের
লাদাখে ভারত ও চীনের মধ্যে চলমান সীমান্ত বিরোধের পটভূমিতেই চীন এবার প্রতিবেশী ভুটানের পশ্চিমাঞ্চলে একটি অংশের ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব দাবি করেছে। ভারতের পর্যবেক্ষকেরা ধারণা করছেন, মূলত দিল্লির ওপর আরো চাপ বাড়াতেই ভুটানের সাকাতেং অভয়ারণ্যকে চীন নিজেদের বলে দাবি করছে। কারণ ভুটানের অখণ্ডতা রক্ষা ও প্রতিরক্ষার জন্য ভারত অঙ্গীকারবদ্ধ। চীনের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ভুটান দিল্লিতে তাদের দূতাবাস মারফত চীনের কাছে একটি ডিমার্শ বা কূটনৈতিক প্রতিবাদপত্রও পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া এদিকে পাকিস্তানকে চারটি সশস্ত্র ড্রোন সরবরাহের প্রক্রিয়া শুরু করেছে চীন। বলা হচ্ছে, চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডর সুরক্ষায় এই ড্রোন সিস্টেম পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, সশস্ত্র ঐ ড্রোনগুলো কীভাবে ব্যবহার করা হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
