ফুল আনন্দের প্রতীক। সে নিজে আনন্দ পায় এবং আমাদেরকেও আনন্দ দেয়।

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২০, ২০:৩১

বাংলা

অবাক জলপান

সুকুমার রায়

 

প্রশ্ন-১। ‘বোবা জল’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: ‘অবাক জলপান’ নাটিকাটি একটি হাস্যকর কাহিনীর ওপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে।

বিভিন্ন প্রকার পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য অনেক সময় কৃত্রিম জলের প্রয়োজন হয়। প্রাকৃতিক জল থেকে এ জল একেবারে আলাদা। বোবা জল হলো পরিশ্রুত গরম জল, যা দুর্গন্ধযুক্ত পানি থেকে পরিস্রাবণের মাধ্যমে আলাদা করা হয়। ফলে এ জলে কোনো স্বাদ নেই। বোবা জল বলতে এই স্বাদহীন জলকেই বোঝায়।

বোবা জল পান করে কোনো স্বাদ পাওয়া যায় না। কারণ এ জল কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়।

প্রশ্ন-২। জলাতঙ্ক কাকে বলে? এই রোগ কেমন করে হয়?

উত্তর: ভূমিকা: সুকুমার রায় রচিত ‘অবাক জলপান’ একটি হাসির নাটিকা। জলাতঙ্ক রোগটির কথা এ নাটিকা থেকে উঠে আসে।

জলাতঙ্ক: জলাতঙ্ক হলো এমন এক প্রকার জীবাণুবাহী রোগ, যে রোগে আক্রান্ত হলে প্রচণ্ড জলের তৃষ্ণা পায়। কিন্তু জল পান করা যায় না। কারণ জল পান করতে গেলেই গলায় খিচ ধরে। এতে রোগীর অনেক কষ্ট হয়। ইংরেজিতে এ রোগকে বলে হাইড্রোফোবিয়া।

যে কারণে হয়: সাধারণত কুকুর জলাতঙ্কের জীবাণু বহন করে। জলাতঙ্কের জীবাণুবাহী কুকুর যদি মানুষের শরীরে কামড় বা আঁচড় দেয়, তখন মানুষের রক্তেও জলাতঙ্কের জীবাণু প্রবেশ করে। এভাবেই মানুষ জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়।

মন্তব্য: জলাতঙ্ক একটি ভয়াবহ রোগ। এ রোগ হতে বাঁচতে হলে কুকুর থেকে সাবধানে থাকতে হবে।

 

কবিতা : ঘাসফুল

জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্র

প্রশ্ন-১। হাওয়াতে কারা মাথা দোলাচ্ছে?

উত্তর: ফুল আনন্দের প্রতীক। সে নিজে আনন্দ পায় এবং আমাদেরকেও আনন্দ দেয়।

হাওয়াতে ঘাসফুল মাথা দোলাচ্ছে। ঘাসফুল ঘাসের ছোট্ট ফুল। মাটির বুকে সবুজ ঘাস জন্মে। ঘাসের পাতার আড়ালে ফোটে এ ছোট ছোট ফুল। এ ঘাসের ওপর দিয়ে হালকা হাওয়া বয়ে যায়। হাওয়ায় দুলে ওঠে ফুলের মাথা। মনে হয় যেন ঘাসফুল আনন্দে নেচে উঠছে।

সবুজ ঘাসের পাতার ভেতর ঘাসফুল ফোটে। হাওয়ায় সে ফুল দুলে ওঠে। মনে হয় ঘাসফুল আনন্দে মাথা দোলাচ্ছে।

প্রশ্ন-২। ঘাসফুল আমাদের কাছে কী মিনতি করছে? কেন করছে?

উত্তর: ঘাসফুল যে মিনতি করছে: ঘাসফুল আমাদের কাছে তাদেরকে তুলতে মানা করেছে। পা দিয়ে মাড়াতে নিষেধ করেছে। আর নরম পাতা ছিঁড়তে বারণ করেছে।

কারণ: ঘাসফুল ঘাসের ছোট্ট ফুল। মাটির খুব কাছে এ ঘাস জন্মে। ঘাসের পাতার আড়ালে ফোটে এই ছোট ছোট ফুল। বাতাসে সে ফুল আনন্দে নেচে ওঠে। কিন্তু মানুষ ঘাসের ওপর দিয়ে হাঁটলে ফুল পিষে যাবে। ফুল তুললে সৌন্দর্য থাকবে না। আর ফুলের পাতা ছেঁড়ায় ফুলের মৃত্যু হবে। কেননা ফুলের খাদ্য তৈরি হয় পাতায়। এ কারণে ঘাসফুল আমাদের কাছে তার ফুল তুলতে, পায়ে পিষতে ও পাতা ছিড়তে নিষেধ করেছে।