জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২০, ২০:৩৬

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

তিন বন্ধু সকালে ব্যায়াম করার উদ্দেশ্যে হাঁটতে বেরিয়েছে। শহরের একটি রাস্তা দিয়ে হাঁটছে । হঠাত্ তাদের নাকে দুর্গন্ধ পেলো । তাকাতেই দেখলো পাশের খাল দিয়ে ময়লা-আবর্জনা ভেসে যাচ্ছে। তখন এক বন্ধু আরিফ বললো, এখানে একটি সুন্দর খাল ছিলো। আমরা ছোট বেলায় এখানে মাছ ধরতাম। গোসল করতাম। এখন এসব স্বপ্ন বলে মনে হয়। রাস্তা পেরিয়ে মাঠের কাছে যেতেই সকাল আকাশের দিকে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখে। তখন আরেক বন্ধু রিপন বলল, এখানে অনেক জায়গা জুড়ে বাগান ছিল। এখানে ছিল ফুরফুরে বাতাস। এখন আর এসব কিছু নেই।  তৃতীয় বন্ধু হাসিব আফসোস করে বলল, বৈশ্বিক উষ্ণতা  বাড়িয়ে আমরা নিজেদের ক্ষতি নিজেরাই করছি।

প্রশ্ন: ক. ‘গ্রিনহাউস প্রক্রিয়া’ কী ?

প্রশ্ন: খ. ব্যাপকহারে নবায়নের ফলে বর্তমান বিশ্বে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে কেন ?

প্রশ্ন: গ. উদ্দীপকে তিন বন্ধু কোন বিষয়গুলো ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছে বুঝিয়ে বলো।

প্রশ্ন: ঘ. উদ্দীপকে তিন বন্ধুর কথায় ভেতরে যে বিষয়টি অন্তর নিহিত রয়েছে  এর জন্য  মূলত কারা দায়ী ? বিশ্লেষণ করো। 

উত্তর:ক. গ্রিনহাউস প্রক্রিয়া হলো  কতগুলো গ্যাসের সমন্বয়ে গঠিত একটি আচ্ছাদন ।

উত্তর: খ.বর্তমান বিশ্বে ব্যাপক হারে নগরায়নের ফলে মানুষ কাজের খোঁজে শহরে ভিড় জমাচ্ছে। ফলে শহরে জনসংখ্যা ও যানবাহনের চাপ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। এই যানবাহন থেকে বের হচ্ছে বিষাক্ত কালো ধোঁয়া কার্বন-ডাই-অক্সাইড। আরো রয়েছে কল-কারখানার কালো ধোঁয়া যা বায়ুতে কার্বনের পরিমাণকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। এই কার্বন বায়ুমণ্ডলের ওজন স্তরকে ক্ষতি করছে। তাই ব্যাপক হারে নবায়নের ফলে বর্তমান বিশ্বে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে ।

উত্তর: গ. উদ্দীপকে তিন বন্ধু তাদের আলোচনায় খাল,বিল,নদী ও সমুদ্রের পানিতে ময়লা- আর্বজনা ফেলা, ইটের ভাটা ও শিল্প কল-কারখানা থেকে বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ও বন উজারকরণের  কথা  ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছে । বিশ্বের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে মহাসমুদ্র,নদী-নালা ,খাল-বিল,হাওড়-বাওড়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সমুদ্রে তেজস্ক্রিয় বর্জ্য নিক্ষেপ করার ফলে তা দূষিত হচ্ছে। এ দূষিত বাষ্প বাতাসে মিশে ওজোন স্তরের ক্ষতি করছে। এছাড়া অনেক নদী ও খাল বর্জ্য ফেলার কাজে ব্যবহূত হচ্ছে। ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান বিশ্বে ব্যাপকহারে নগরায়নের ফলে কাজের খোঁজে মানুষ শহরে ছুটছে, ফলে শহরে বাড়ছে জনসংখ্যার চাপ,বাড়ছে রকমারি যানবাহনের সংখ্যা । এসব যানবাহনের নির্গত কালো ধোঁয়া ,ইটের ভাটা ও  শিল্প-কারখানার কালো ধোঁয়া বায়ুতে কার্বন-ডাই- অক্সাইডের পরিমাণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে আমাদের জীবন হুমকির সম্মুখীন ।

সবুজ উদ্ভিদ বাতাস থেকে  কার্বন-ডাই-অক্সাইডে গ্রহণ করে এবং আমাদের জন্য অক্সিজেন ত্যাগ করে । কিন্তু ব্যাপক হারে বৃক্ষ নিধন বা বন উজারকরণের ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে গেছে। ফলে বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর ক্ষয়কারী সিএফসি গ্যাস অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। 

উত্তর: ঘ. উদ্দীপকে তিন বন্ধুর কথার ভেতরে যে বিষয়টি অন্তর্নিহিত রয়েছে তা  হলো বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি।  এর জন্য  মূলত মানুষ দায়ী। তাদের সৃষ্ট কর্মকাণ্ডের ফলেই বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা যেসব দ্রব্য ব্যবহার করি যেমন রেফ্রিজারেটর,এয়ার কন্ডিশনার ,প্লাস্টিক, ফোম, এরোসল  প্রভৃতির ফলে বায়ুমণ্ডলে উত্পাদন হচ্ছে এক ধরনের গ্রিনহাউস গ্যাস (এইচসিএফসি)। এ গ্যাসের কারণে বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।  ওজোন স্তর সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীর জীবজগতকে রক্ষা করে। ওজোন স্তর ক্ষয়ের কারণে ভূপৃষ্ঠের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব শতকরা পাঁচ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি   পাচ্ছে। ফলে জীবজগত কঠিন বিপদের সম্মুখীন। পৃথিবী থেকে  জীববৈচিত্র দিনদিন হারিয়ে যেতে শুরু করেছে। মরুকরণ শুরু হয়েছে। উন্নত বিশ্বের দেশগুলো অধিক হারে জীবাশ্মা জ্বালানী ব্যবহার করে পরিবেশ নষ্ট করছে। তাছাড়া এসব দেশ পারমাণবিক চুল্লি ব্যবহার করে ,যা থেকে প্রচুর বর্জ্য সৃষ্টি হয়। এই বর্জ্য গ্রিনহাউস গ্যাস সৃষ্টি করে। শিল্প-কারখানার বর্জ্য ও কালো ধোঁয়া থেকেও  প্রচুর পরিমাণে পারদ,সিসা ,আর্সেনিক নির্গত হয়। সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনার মাধ্যমে এটা আমাদের কাছে পরিষ্কার যে,পরিবেশ বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ বৈশ্বিক ঊষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য মানব সৃষ্ট কর্মকাণ্ডই দায়ী । উদ্দীপকে তিন বন্ধুর আলোচনার ভেতর দিয়ে বৈশ্বিক ঊষ্ণতা বৃদ্ধির কারণ  মানুষের কর্মকাণ্ড এই সার নির্যাসটাই বেরিয়ে এসেছে।