মেহেরপুরে সরকারিভাবে ধান-চাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না। সরকারি মূল্যের চেয়ে খোলাবাজারে দাম বেশি থাকায় সরকারি গুদামে মিলার ও কৃষকরা ধান-চাল সরবরাহে অনিহা দেখাচ্ছেন। এ বিষয়ে নোটিশ দিয়ে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত পুনরায় সময় বাড়ানো হলেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সম্ভাবনা দেখছে না খাদ্য অফিস। জেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, মেহেরপুর জেলায় চাল ক্রয়ের সরকারি লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৪৩৮ মেট্রিক টন চাল। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৬৬৫ মেট্রিক টন, গাংনী উপজেলায় ৫৩৭ মেট্রিক টন, মুজিবনগর উপজেলায় ২৩৬ মেট্রিক টন। তবে এখনো পর্যন্ত এর সিকিভাগও অর্জিত হয়নি। লোমান রাইস মিলের মালিক আলী কদর বলেন, আমার বরাদ্দ ছিল ১২৩ টন চাল। এখনো পর্যন্ত কোনো চাল সরবরাহ করতে পারিনি। খোলাবাজারে চালের দাম অনেক বেশি। এছাড়াও ধান কিনতে হচ্ছে প্রায় ২৬ টাকা কেজি দরে। তাই এবার চাল সরবরাহে বিরাট লোকসানের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। তবে পুনঃনির্ধারিত তারিখের মধ্যেই সব চাল সরবরাহ করে দেব।
জেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ বলেন, আমরা ইতিমধ্যে সকল মিলারদের চাল সরবরাহের জন্য নোটিশ দিয়েছি। তারা অবগত করেছে নির্ধারিত তারিখের মধ্যে চাল সরবরাহ করবেন। ব্যর্থ হলে মিলারদের লাইসেন্স কালো তালিকাভুক্ত হবে। একই সঙ্গে লাইসেন্স বাতিলও হতে পারে। তিনি বলেন, সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে খোলাবাজারে দাম বেশি তাই এমনটি হচ্ছে। তবে যে কোনো পরিস্থিতিতে সরকারি চাহিদা পূরণ করতে আমরা সক্ষম হব।
গঙ্গাচড়ায় ধান-চাল ক্রয়ে নেই গতি
গঙ্গাচড়া (রংপুর) সংবাদদাতা
সরকারিভাবে ধান-চাল কেনার এক মাস অতিবাহিত হলেও রংপুরের গঙ্গাচড়ায় সরকারিভাবে ধান ও চাল ক্রয়ে কোনো গতি নেই। উপজেলা খাদ্যগুদাম ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাবিহা সুলতানা জানান, ২০২০ সালের বোরো মৌসুমে উপজেলার ২ হাজার ১৩৫ জন কৃষকের কাছ থেকে ২ হাজার ১৩৫ মেট্রিক টন ধান ও ৭৬ মিলমালিকের কাছ হতে ১ হাজার ৪৪৩ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হবে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ধান ১০ মেট্রিক টন এবং চাল ৬০৩ মেট্রিক টন কেনা হয়েছে। চাতাল মালিকরা বলছেন, বাইরেই চালের দাম বেশি। সরকারিভাবে কেজিপ্রতি ৩৬ টাকা দিলেও খোলাবাজারে ঐ চাল বিক্রি হচ্ছে ৩৮ টাকা কেজি দরে। এ কারণে মিলমালিকদের চাল সরবরাহে তেমন আগ্রহ নেই। উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার সিংহ বলেন, ধান-চাল ক্রয়ে কোনো গতি নেই। মিলমালিকরা একদম বাধ্য হয়ে চাল দিচ্ছে। তা না হলে তাদের লাইসেন্স বাতিল কিংবা কালোতালিকাভুক্ত হবে এই ভয়ে লস হলেও চাল তাদের দিতে হবে।
