বিশেষজ্ঞরা বলিতেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে নূতন নূতন ভয়াবহ যেই সকল রোগ ছড়াইতেছে তাহার মূল উত্স হইতেছে পশু-পাখি ও কীটপতঙ্গ। বাংলাদেশের জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) মতে, গত ২৫ বত্সরে বিশ্বে যোগ হইয়াছে ৩৫টি নূতন রোগ। এই সকল রোগের ৭৫ হইতে ৮০ শতাংশের জন্ম বিভিন্ন প্রাণী হইতে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও জিকার বাহক মশা; নিপাহ, মারবুর্গ, ইবোলা ও সার্স ভাইরাসের উত্স বাদুড়; মার্সের উত্স উট; ২০০০ সালে দেখা দেওয়া লেপটোসিরোসিসের উত্পত্তি ইঁদুর; সোয়াইন ফ্লুর উত্পত্তি শূকর ইত্যাদি। বাণিজ্যিকভাবে কুমির ও গুইসাপ উত্পাদন এবং পাখি পোষার প্রবণতা বাড়িবার কারণেও বৃদ্ধি পাইতেছে বিভিন্ন অসুখবিসুখ। মানুষ হইতে মানুষে সংক্রমণের ফলে তাহা ভয়াবহ রূপ লাভ করিতেছে। বিভিন্ন প্রাণী হইতে ছড়ানো এই রোগসমূহকে বলা হয় জুনোটিক ডিজিজ। কিন্তু এই সকল রোগপ্রতিরোধে অসুস্থ পশু-পাখির সঙ্গে সংশ্রবের সময় আমরা যেমন সতর্কতা অবলম্বন করি না, তেমনি এই সকল প্রাণীর রোগবালাই প্রতিরোধেও আমরা তেমন সচেতনতার পরিচয় প্রদান করি না।
ইত্তেফাকের একটি খবরে বলা হইয়াছে, আমাদের সীমান্তে পশু-পাখির স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়টি তেমন আমলে নেওয়া হইতেছে না। ইহার জন্য স্থল, সমুদ্র ও বিমানবন্দরে ২৪টি কোয়ারেন্টাইন স্টেশন নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হইয়াছে ২০১৭ সালে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হইলেও সত্য যে, দুইটি ছাড়া বাকি ২২টি স্টেশনই চালু করা হয় নাই। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে যেই দুইটি কোয়ারেন্টাইন স্টেশন তৈরি করা হইয়াছে তাহা চালু করা হইয়াছে সীমিত পরিসরে। সেখানে পশু-পাখির স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা নাই। এক দিনের মুরগির বাচ্চা আমদানি করা হইলেও তাহা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হইতেছে অন্যত্র। কোথাও কোথাও বন্দর হইতে কয়েক কিলোমিটার দূরে কোয়ারেন্টাইন স্টেশন নির্মাণের কারণেও সমস্যা হইতেছে। কোনো কোনো স্টেশনের যন্ত্রপাতি বাক্সবন্দি ও বিকল। জনবল সংকটের কারণেও অনেক স্টেশন অব্যবহারযোগ্য। ফলে কোয়ারেন্টাইন স্থাপনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যই পূরণ হইতেছে না দুঃখজনকভাবে।
বন-জঙ্গল দিন দিন উজাড় হইবার কারণেও মানুষ নানাভাবে পশু-পাখির সংস্পর্শে আসিতেছে। এই সকল জীবজন্তুর মধ্যে প্রাকৃতিকভাবেই যেই সকল ভাইরাস থাকে, তাহা মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হইতেছে। তাই পশু-পাখির জন্য গড়িয়া তুলিতে হইবে আধুনিক ও উন্নত মানের হাসপাতাল। আর সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও রিগ্যানের কথা অনুসরণযোগ্য। তিনি বলিয়াছেন, গভর্নমেন্ট শুড বি স্মল। সরকারের আকার ছোট হওয়া উচিত। এই জন্য বিভিন্ন বন্দরে পশু-পাখির স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়টি বেসরকারি ব্যবস্থাপনার উপর ছাড়িয়া দিতে পারে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
