এখন পর্যন্ত শ্বাসতন্ত্রীয় নমুনার আরটি-পিসিআর (রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ-পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন) পদ্ধতিটিই নোভেল করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণের আদর্শ পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। WHO-এর মতে, এই রোগে আক্রান্তদের মধ্যে অন্তত শতকরা ৮০ ভাগ রোগীই মৃদু উপসর্গ প্রকাশ করেন এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবেই সুস্থতা অর্জন করেন। বাকি ২০ ভাগের মধ্যে ১৪ শতাংশ রোগীকে ‘সিভিয়ার ডিজিজ’ এবং ৬ শতাংশ রোগীকে ‘ক্রিটিক্যালি ইল’ হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিত্সা করার প্রয়োজন হয়। আক্রান্ত রোগীর দেহ থেকে এই ভাইরাস নির্মূলের জন্য এখনো পর্যন্ত স্বীকৃতি কোনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি। তবে ইতিপূর্বে অন্য রোগের জন্য আবিষ্কৃত কিছু ওষুধ যেমন রেমডেসেভির, ফাভিপিরাপির, ক্লোরোকুইন/ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ইত্যাদি ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ফলাফলও আসছে।
করোনা সংক্রমণে সিভিয়ার ডিজিজে মৃত্যুর প্রধান কারণ ভাইরাস নিজে নয়, বরং ভাইরাসের বিরুদ্ধে আমাদের ইমিউন সিস্টেমের (রোগপ্রতিরোধক্ষমতা) অতি সংবেদনশীলতা। শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে ফুসফুসের কোষে প্রবেশ করার পর ভাইরাসের বংশ বৃদ্ধির ফলে সংশ্লিষ্ট কোষটি পাইরোপটোসিস দশায় পরিণত হয়, যা শক্তিশালী প্রদাহ সৃষ্টিকারী হিসেবে বিবেচিত। এর প্রভাবে ফুসফুসের এপিথেলিয়াল সেল, এন্ডোথেলিয়াল সেল এবং এলভিওলার ম্যাক্রোফেইজ থেকে প্রদাহ সৃষ্টিকারী বিভিন্ন ধরনের সাইটোকাইন ও কেমোকাইন নিঃসৃত হয়। এদের প্রভাবে উত্পত্তিস্থলের প্রতি প্রচুর পরিমাণে মনোসাইট, ম্যাক্রোসাইটওটি সেল আকৃষ্ট হয় এবং অধিকতর সাইটোকাইন ও কেমোকাইন নিঃসারণ ঘটে। একে সাইটোকাইন স্টর্ম হয়, যা ফুসফুসের অবকাঠামো ধ্বংস করাসহ অন্যান্য অঙ্গের ক্ষতি সাধন করে। সাধারণত সাইটোকাইন স্টর্ম নির্ণয়ে সিরামফেরিটিন লেভেল পরিমাপ করা হয়। এই সংকটকালীন দশাকে প্রশমনের জন্য নির্দিষ্টভাবে অনুমোদিত কোনো ওষুধ নেই। প্রথাগত কর্টিকোস্টেরয়েড এই সাইটোকাইন স্টর্ম প্রশমিত করার জন্য ব্যবহূত হচ্ছে—যদিও এর ব্যবহার ও কার্যকারিতা ক্ষেত্রবিশেষে বিতর্কিত।
এযাবত্কাল মেসেনকাইমাল স্টেমসেল দ্বারা কোভিড-১৯-জনিত সিভিয়ার নিউমোনিয়া চিকিত্সায় রেজিস্ট্রিকৃত চীন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে ৩০-এর বেশি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলমান আছে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত রিজেনারেটিভ মেডিসিন কোম্পানি মেসোব্লাস্ট একটি গবেষণায় নোভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ভেন্টিলেটর সাপোর্টেড রোগীদের শিরাপথে মেসেনকাইমাল স্টেমসেল দ্বারা চিকিত্সায় ৮৩ শতাংশ ক্ষেত্রে সফলতা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্বনামধন্য বায়োফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি Athersys এবং ইউনিভার্সিটি হসপিটাল ক্লিভল্যান্ড মেডিক্যাল সেন্টার যৌথভাবে কোভিড-১৯ সিভিয়ার ডিজিজে আক্রান্ত রোগীদের ওপর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ইতিমধ্যে শুরু করেছে। বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলায় স্টেমসেল থেরাপি অচিরেই উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে বলে বিজ্ঞানীরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।
n লেখক :পিএইচডি গবেষক, স্টেমসেল টেকনোলজি, তেহরান ইউনিভার্সিটি অব মেডিক্যাল সাইন্সেস, ইরান
