মো. কবির হোসেন (সুজন) সিনিয়র প্রভাষক
ব্যবস্থাপনা বিভাগ
নিকুঞ্জ মডেল কলেজ, ঢাকা
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা
প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ,শুভাসিস রইল। তোমাদেরকে অনুশীলন বিভাগে স্বাগতম। তোমাদের সুবিধার্থে ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ের দ্বিতীয়পত্র হতে একটি উদ্দীপক এবং উদ্দীপকের আলোকে এর উত্তর প্রদান করা হলো। আশা করি তা তোমাদর সংগ্রহে থাকবে।
উদ্দীপকঃ নিকুঞ্জ মডেল কলেজের শিক্ষার্থীরা বার্ষিক শিক্ষা সফরে যাওয়ার প্রাক্কালে বার্ষিক শিক্ষা সফর উদ্যাপন কমিটির সদস্য সচিব প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের একত্রিত করে শিক্ষা সফর সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে সকল শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে একটি কমিটি করে উক্ত কমিটির সকল সদস্যদেরকে ছোট ছোট দলে ভাগ করে কার কি কাজ তা জানিয়ে দিয়ে তাদের দায়িত্ব কর্তব্য বুঝিয়ে দিলেন। সকল সদস্য তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করেছেন বলে কার্যশেষে প্রতীয়মান হয়। এতে বুঝা যায় সঠিক ব্যক্তিকে সঠিক স্থানে স্থাপন করা হয়েছে।
ক) প্রশাসন কী ?
খ) ব্যবস্থাপনার সার্বজনীনতা বলতে কি বুঝায়?
গ) উপরের উদ্দীপকে কাজকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে ব্যবস্থাপনার কোন নীতির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে ? আলোচনা কর।
ঘ) উদ্দীপকের সর্বশেষ পরিস্থিতিতে ব্যবস্থাপনার কোন নীতির প্রতি কি সমর্থন জানানো হয়েছে? তোমার মতামত দাও।
উদ্দীপকের ক নং প্রশ্নের উত্তর ঃ প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য নির্ধারনের লক্ষ্যে ব্যবস্থাপনার সর্বোচ্চ স্তরে অধিষ্টিত ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে এবং তাদের কর্মপ্রয়াসকে প্রশাসন বলা হয়।
উদ্দীপকের খ নং প্রশ্নের উত্তর ঃ ব্যবস্থাপনার সার্বজনীনতা বলতে সকল ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা জ্ঞানের আবশ্যকতাকে বুঝানো হয়েছে।
ব্যবসা,পরিবার,সমাজ ও রাষ্ট্র সকল ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনার অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায়। কারণ ব্যবসা চালাতে যেমন ব্যবস্থাপনার দরকার তেমনি পরিবার, সমাজ এমনকি রাষ্ট্র চালাতেও দক্ষ ব্যবস্থাপনার দরকার। কারণ দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা বিরাজ করে। তাই আড়াই হাজার পূর্বে গ্রীক দার্শনিক সক্রেটিসও বলেছেন ব্যবস্থাপনা একটি সার্বজনিন বিষয়। তাই সর্ব জায়গায় উপস্থিতির কারণে ব্যবস্থাপনাকে আমরা একটি সার্বজনিন বিষয় বলতে পারি।
উদ্দীপকের গ নং প্রশ্নের উত্তর : উপরের উদ্দীপকে কার্য বিভাজন বা শ্রমবিভাজনের নীতির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের মোট কাজকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে এক এক ভাগের দায়িত্ব একেকজন বিশেষজ্ঞের উপর ন্যস্ত করাকে কার্য বিভাজন বা শ্রম বিভাজন বলা হয়।
মোট কার্য সম্পাদন করা প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য। তাই এই মোট কাজকে কার্যের সুবিধার্থে সফলভাবে সম্পূর্ণ করার জন্য আলাদা আলাদা ভাবে মোট কার্যকে ভাগ করা হয়। সকলের সমন্বয় মোট কাজটি সম্পূর্ণ হয়। উপরের উদ্দীপকে বার্ষিক শিক্ষা সফর সম্পূর্ণ করার জন্য মোট কাজকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করা হয়। এই ছোট ছোট ভাগে ভাগ করা কার্য বিভাজন নীতির অনর্ভূক্ত।
উদ্দীপকের ঘ নং প্রশ্নের উত্তর : উপরের উদ্দীপকে শৃঙ্খলার নীতির প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে।
যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য স্থানে এবং সঠিক বস্তুকে সঠিক স্থানে স্থাপনের নীতিকে শৃঙ্খলার নীতি বলা হয়। অর্থাত্ যে যে কাজে পারদর্শী তাকে সে কাজে নিয়োগ করা উচিত।
উপরের উদ্দীপকে বার্ষিক শিক্ষা সফর সম্পাদনের জন্য একটি কমিটি কিছু কিছু দায়িত্ব আলাদা আলাদা ভাবে ভাগ করে যোগ্যতা সম্পূর্ণ ব্যক্তিদের উপর দায়িত্ব অর্পন করেন। তারা প্রত্যেকে তাদের দায়িত্ব সুচারুভাবে সম্পূর্ণ করেন। এর থেকে প্রতীয়মান হয় যে যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য স্থানে স্থাপন করা হয়েছে্ । তাই তারা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পেরেছেন। অর্থাত্ এখানে শৃৃঙ্খলার নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
উপরের উদ্দীপকে ব্যবস্থাপনার দুটি নীতি ফুটে উঠেছে। একটি কার্য আদায়ের সুবিধার্থে অন্যটি পারদর্শী ব্যক্তিকে দায়িত্ব অর্পন করা। কারণ যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য স্থানে স্থাপন করা না হলে কার্য সঠিকভাবে আদায় হয় না। তাই ব্যবস্থাপনার কার্য সফলভাবে সম্পূর্ণ করণে শৃঙ্খলা নীতিটি অতীব প্রয়োজন।
