বান্দরবানে জেএসএসের দুই গ্রুপে গোলাগুলি, ছয় জন নিহত, গুলিবিদ্ধ ৩

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২০, ২৩:০৪

আধিপত্য বিস্তারের জেরে বান্দরবান সদর উপজেলায় জেএসএস-সন্তু লারমা এবং জেএসএস-এমএন লারমা গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় ছয় জন নিহত হয়েছে। নিহতরা সকলেই জেএসএস-এমএন লারমা গ্রুপের সদস্য। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ স্কুল শিক্ষিকার মেয়েসহ তিন জনকে চিকিত্সার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও চকরিয়া মালুমঘাট হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহতরা হলেন—রতন তঞ্চঙ্গা, প্রজিত চাকমা, ডেবিট বাবু, মিলন চাকমা, জয় ত্রিপুরা ও দিপেন ত্রিপুরা। তারা সবাই খাগড়াছড়ি জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বান্দরবান সদর উপজেলার রাজবিলা ইউনিয়নের বাঘমারার ভেতরে একটি পাহাড়ি এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি-এমএন লারমা গ্রুপের সশস্ত্র কিছু সদস্য আশ্রয় নেয়। খবর পেয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি—সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় দুই গ্রুপের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই ছয় জনের মৃত্যু ঘটে।

গুলিবিদ্ধ আহত তিন জনের মধ্যে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার কলেজ পড়ুয়া একজন মেয়েও রয়েছে। তবে তার নাম জানা যায়নি। গুলিবিদ্ধ অন্য দুই জন হচ্ছে—জেএসএস-এমএন লারমা গ্রুপের সদস্য খাগড়াছড়ির বাসিন্দা নিং চাকমা (৪২) ও বিদ্যুত্ ত্রিপুরা (৩৩)। সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিত্সা শেষে উন্নত চিকিত্সার জন্য তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং স্কুল শিক্ষিকার মেয়েকে চকরিয়া মালুমঘাট খ্রিষ্টান হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে সেনাবাহিনী, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ঘটনাস্থলসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সদর হাসপাতাল এলাকায়ও নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কাবস্থা।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বান্দরবানের পুলিশ সুপার জেরীন আক্তার জানান, সশস্ত্র দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। সন্ত্রাসীরা কারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের লাশ এবং গুলির খোসাসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

খাগড়াছড়িতে প্রতিবাদ সমাবেশ

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, বান্দরবানে সন্ত্রাসী হামলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) গ্রুপের জেলা সভাপতি রতন তঞ্চঙ্গাসহ ছয় নেতাকর্মীর প্রাণহানির প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে শহরের মহাজনপাড়া থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচি বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে। পরে মুক্তমঞ্চের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জনসংহতি সমিতির জেলা সহসভাপতি সুভাষ কান্তি চাকমার সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন জনসংহতি সমিতির জেলা সাধারণ সম্পাদক সিন্ধু কুমার চাকমা, জকি চাকমা, দীপন চাকমা, জিনিত চাকমা। বক্তারা ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান।