এইচএসসি পরীক্ষার আইসিটি

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:১০

মো: নুরুল হক, প্রভাষক,তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ

সরকারি মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা

প্রিয় শিক্ষার্থীরা,কেমন আছ?  কিছুদিন পর এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তাই নিয়মিত প্রস্তুতির কোন বিকল্প নেই। এইচএসসি পরীক্ষা-২০১৯ উপলক্ষ্যে আজ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের  সংখ্যা পদ্ধতি ও ডিজিটাল ডিভাইস এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করব-

 

১।   নন-পজিশনাল সংখ্যা পদ্ধতি (Non positional number system) : যে পদ্ধতিতে সংখ্যার মান ব্যবহূত চিহ্ন বা অঙ্কসমূহের পজিশন বা অবস্থানের ওপর নির্ভর করে না তাদের নন-পজিশনাল সংখ্যা পদ্ধতি বলে। এটি একটি প্রাচীন পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে প্রতীক হিসেবে বিভিন্ন হাতিয়ার, পশুপাখি, জীবজন্তুর ছবি এমনকি গাছ বা ফুল দিয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যামান প্রকাশ করা হতো। Hieroglyphics সংখ্যা পদ্ধতি নন-পজিশনাল সংখ্যা পদ্ধতির উদাহরণ।

২।   পজিশনাল সংখ্যা পদ্ধতি (Positional number system) : এ ধরনের সংখ্যা পদ্ধতিতে সংখ্যার মান ব্যবহূত চিহ্ন বা অঙ্কসমূহের পজিশন বা অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়। এই পদ্ধতিতে সংখ্যা বেস (Base), অঙ্কের অবস্থান (Position) ও র্যাডিক্স (Radix) পয়েন্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সংখ্যা পদ্ধতির সর্বাধুনিক ধাপ হিসেবে পজিশনাল সংখ্যা পদ্ধতি বর্তমান বিশ্বে ব্যবহূত হচ্ছে। পজিশনাল সংখ্যা পদ্ধতির এই সংখ্যায় বিভিন্ন অংশ রয়েছে। যেমন-

 

এখানে প্রতিটি সংখ্যাকে Radix Point দিয়ে পূর্ণাংশ ও ভগ্নাংশ এই দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়।

বেজ-এর উপর ভিত্তি করে পজিশনাল সংখ্যাকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা :

১। দশমিক সংখ্যা পদ্ধতি (Decimal number system)

২। বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি (Binary number system)

৩। অকট্যাল সংখ্যা পদ্ধতি (Octal number system) I

৪। হেক্সাডেসিমেল সংখ্যা পদ্ধতি (Hexadecimal number system)|

দশমিক  ( Decimal)   সংখ্যা পদ্ধতি ঃ আমরা সাধারণত যে  সংখ্যা পদ্ধতি ব্যবহার করি সেটা হল দশমিক সংখ্যা পদ্ধতি। সাধারণ হিসাব নিকাশের জন্য দশমিক সংখ্যা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। দশমিক সংখ্যা পদ্ধতির মৌলিক অঙ্কগুলি হচ্ছে ঃ ০, ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯। এই পদ্ধতিতে মোট দশটি অংক ব্যবহার করা হয়। মোট দশটি অঙ্ক ব্যবহার করা হয় বলে এই সংখ্যা পদ্ধতিকে দশমিক সংখ্যা পদ্ধতি বলা হয়। এই পদ্ধতির বেস বা ভিত ১০।

বাইনারি (Bianry)  সংখ্যা পদ্ধতি ঃ বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি একটি সরলতম সংখ্যা পদ্ধতি। কম্পিউটারের অভ্যন্তরীণ কাজ সম্পন্ন হয় বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতিতে। বাইনারি পদ্ধতিতে ০ এবং ১ এই দুটি মাত্র অঙ্ক ব্যবহূত হয়। এজন্য বাইনারি পদ্ধতির বেস ২।  এ পদ্ধতির ০ ও ১ এই অঙ্ক দুটিকে সংক্ষেপে বিট (Bit  বা Binary Digit) বলা হয়। ০ ও ১ কে বিভিন্নভাবে সাজিয়ে সকল সংখ্যাকে বাইনারি সংখ্যায় লিখা সম্ভব। ডিজিটাল কম্পিউটারসহ সব ডিজিটাল যন্ত্রেও অভ্যন্তরীণ কাজে বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

অকটাল (Octal) সংখ্যা পদ্ধতি ঃ আধুনিক ডিজিটাল কম্পিউটারে অকটাল সংখ্যা পদ্ধতি ব্যবহূত হচ্ছে। অকটাল সংখ্যা পদ্ধতিতে ৮টি অঙ্ক ব্যবহার করা হয়। এজন্য অকটাল সংখ্যা পদ্ধতির বেস ৮ । এ পদ্ধতির আটটি অঙ্ক হল ০, ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭।