ময়ূর-২ লঞ্চের চালকরাই দায়ী!

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২০, ২৩:০৬

ঢাকা নদীবন্দরের (সদরঘাট) কাছে বুড়িগঙ্গা নদীতে এমএল মর্নিং বার্ড লঞ্চডুবির ঘটনায় তদন্ত কমিটির ২০ দফা সুপারিশ প্রকাশ করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। তবে ঐ ঘটনায় দায়ীদের নাম প্রকাশ করেনি মন্ত্রণালয়। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, তদন্ত কমিটির পুরো প্রতিবেদন গণমাধ্যমে চলে এলে পুলিশের তদন্ত ব্যাহত হতে পারে। তবে তদন্ত কমিটির একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার জন্য ময়ূর-২ লঞ্চের চালকদেরই প্রধানত দায়ী করা হয়েছে।

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবির ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে সোমবার গভীর রাতে                 নৌ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে কমিটি প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে। গত ২৯ জুন বুড়িগঙ্গায় ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় মর্নিং বার্ড ডুবে যায়। এ ঘটনায় ৩৪ জন মারা যায়। ঐ ঘটনায় নৌপুলিশ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় সাত জনের নামে  মামলা করে। এ ব্যাপারে ১৭ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

তদন্ত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পুলিশি তদন্তে ৩০২ ধারায় অপরাধের প্রমাণ বেরিয়ে এলে এটি হত্যাকাণ্ডের মামলায় রূপান্তরিত হবে। তিনি বলেন, ‘কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সদরঘাট এলাকা থেকে নৌকা চলাচল বন্ধ করে দিয়ে দ্রুতগতির ওয়াটার বাস নামানো হবে। ডকইয়ার্ড স্থানান্তরের বিষয়েও মিটিং করেছি। এগুলো সরাতে হবে।’ মর্নিং বার্ড ডুবে যাওয়ার বিষয়ে নৌসচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, ময়ূর-২ লঞ্চটি লালকুঠি ঘাটে আসার সময় প্রথমে পেছনে পরে মাঝ বরাবর ধাক্কা দিয়ে মর্নিং বার্ডকে ডুবিয়ে দিয়েছে।

নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনার কারণ ও দায়ীদের নাম প্রতিবেদনে আছে। এ ঘটনায় ১৭ আগস্টের মধ্যে আইনি তদন্তের রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। ঐ তদন্ত যাতে কোনো কারণে বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য আমরা তা প্রকাশ করছি না। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা নিরাপদ নৌপথ তৈরি করার জন্য কাজ করছি। নৌযানে ভ্যাসেল ট্র্যাকিং সিস্টেম (ভিটিএস) স্থাপনের কার্যক্রম চলছে।’ তিনি জানান, এই দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দুই লঞ্চের কোনোটিরই ফিটনেস সনদ ছিল না। তিনি স্বীকার করেন যে অনেক নৌযানেরই ফিটনেস সনদ নেই।

এই দুর্ঘটনার দ্রুত বিচার প্রসঙ্গে নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় নিহতদের পরিবার যেন স্বস্তি পায়, সেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল আইনের খসড়ায় কার স্বার্থে দুর্ঘটনার সাজা কমানো হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা মালিক, শ্রমিক ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করতে চাই।’

যা আছে সুপারিশে :সংবাদ সম্মেলনে নৌসচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী তদন্ত কমিটির ২০ সুপারিশ পড়ে শোনান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—সদরঘাটসংলগ্ন নৌপথে অলস বার্দিং উঠিয়ে দিতে হবে; পন্টুন ছাড়া নোঙর করা নৌযান রাখা যাবে না; এলাকা থেকে পর্যায়ক্রমে শিপইয়ার্ড উঠিয়ে দিতে হবে, সদরঘাট টার্মিনালের আশপাশে কোনো খেয়াঘাট রাখা যাবে না; লঞ্চের সামনে-পেছনে, মাস্টারব্রিজ, ইঞ্জিনরুম ও  ডেকে সিসিটিভি ক্যামেরা বসাতে হবে; ওয়াকিটকি সিস্টেম চালু করতে হবে; ফিটনেসবিহীন লঞ্চ চলাচল বন্ধ করতে হবে; নৌযানের স্পিড লিমিট নির্ধারণ করে দিতে হবে; যথাযথ সনদধারী মাস্টার ও চালক ছাড়া নৌযান পরিচালনা করা যাবে না; নৌ আইন অমান্যকারীদের শাস্তির মেয়াদ ও জরিমানার পরিমাণ যুগোপযোগী করে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে; দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে দায়ী মাস্টার ও ইঞ্জিন ড্রাইভারদের সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করতে হবে; নৌ পুলিশের জনবল বাড়াতে হবে এবং নৌ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন করতে হবে।