হাজার হাজার বছর আগের কথা। তখন মঙ্গল গ্রহের প্রাণীরা বেশ সুখে-শান্তিতে বাস করত। মঙ্গলের প্রাণীদের সঙ্গে লোহারও আনন্দেই দিন কাটছিল।
হঠাত্ কী যে হলো! প্রাণীকূলে শুরু হলো মারামারি। সুখের দিনগুলো গেল হারিয়ে।
এক সময় লোহার অস্ত্র দিয়ে মঙ্গলের প্রাণীরা ভয়ংকর নানা যুদ্ধে মেতে ওঠে। মঙ্গলের প্রাণীরা পাল্লা দিয়ে অস্ত্র তৈরিতে লেগে যায়। কে কত নিখুঁত অস্ত্র বানাতে পারে! কার অস্ত্রে একসঙ্গে কত প্রাণী মারা যায়। এসব আ...র...কি!
মঙ্গল হয়ে ওঠে অমঙ্গলের প্রতীক! মঙ্গলে একটা প্রাণীও নেই প্রাণীরাজ্যে ভালো পরার্মশ দেবার। যেন হাওয়া হয়ে গেল প্রাণীকূলের শুভ বুদ্ধি!
মঙ্গলে এমন সব কাজে লোহার ভীষণ কষ্ট হয়—আমায় দিয়ে এখানকার প্রাণীরা কত সহজেই না মারাত্মক অস্ত্র বানাচ্ছে। লোহার অভাবে নিশ্চয় তারা আর অস্ত্র বানাতে পারবে না। তখন থেমে যাবে ওদের যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলা।
শান্তিপ্রিয় লোহা মঙ্গলে নতুন করে শান্তি ফেরানোর আশায় লুকোবার কথা ভাবে। যেমন ভাবা তেমন কাজ। এক রাতে সে একেবারে হাওয়া।
এক ভোরে মঙ্গলের প্রাণীদের ঘুম ভাঙে। তারা তাকিয়ে দেখে, সারা মঙ্গল লোহাশূন্য।
একি অবাক কাণ্ড! চারদিকে খোঁজ খোঁজ রব পড়ে গেল। নেই, নেই, নেই! কোথাও নেই এক টুকরো লোহা।
পৃথিবীতে তখন অনেক লোহা। বিজ্ঞানীদের ধারণা, পৃথিবীর পেটে গলিত অবস্থায় রাজ্যের লোহা আছে। সেই লোহাই এই লোহা।
পৃথিবীতে এসে লোহা মহা খুশি। তাকে দিয়ে মানুষ রেললাইন, রেলের ইঞ্জিন, চাকা, কাঁচি, সেলাই মেশিন, ঘড়ির স্প্রিং, চাষের যন্ত্র, সেতু, জাহাজ কতকি-ই না বানাচ্ছে। মানুষ-রাজ্যের প্রয়োজন মেটাতে পেরে লোহাও ভারি খুশি। ভালোই দিন কাটছিল লোহার। ধাতুর মধ্যে লোহাই মানুষের বেশি কাজে লাগে।
লোহা একা হলেই মঙ্গলের কথা ভাবে। কেবলই ভাবে। পৃথিবীর মানুষও যদি মঙ্গলের প্রাণীদের মতো ধ্বংসাত্মক হয়ে ওঠে। তখন সে পালাবে কোথায়? পরক্ষেণেই ভাবে, কেন খারাপ চিন্তা করছি। মানুষ অনেক ভালো। তারা ভালো কাজেই আমায় ব্যবহার করবে।
পৃথিবীতে মানুষও নানা লোহার সমরাস্ত্র বানাতে শুরু করেছে। লোহার মনে মঙ্গলের সেই আতঙ্ক। লোহা কেবলই ভাবে—পৃথিবীর মানুষও বুঝি যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলায় মেতে উঠবে। আমি পালাব কোথায়?
