অথৈ জল আর সবুজের সমাহারে

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:১৯

 

চারদিকে নৈসর্গিক সৌন্দর্য, পাহাড়-পর্বত, ঝরনাধারা, আঁকাবাঁকা উঁচু-নিচু পাহাড়ি রাস্তা, অথৈ পানি আর সবুজের সমাহারে পরিপূর্ণ নানা বৈচিত্র্যের এক লীলানিকেতন কাপ্তাই হ্রদ। পার্বত্য জেলা রাঙামাটিজুড়ে অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহত্ কৃত্রিম হ্রদ এটি। লেকের পানিতে অজস্র মাছ আর জীববৈচিত্র্যের সমাহার। পাহাড়ের গায়ে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ আর সুবজের সম্ভার। সব মিলিয়ে কাপ্তাই লেক পর্যটন, প্রাণিসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের এক বিশাল ভাণ্ডার।

যার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মানুষকে মুগ্ধ করে তোলে। এই অঞ্চলের সোন্দর্যের বর্ণনা শুনে সবার মতো আমি ও মুগ্ধ হই। মনে খুব কৌতুহল জাগে, এই অঞ্চলে ভ্রমণ করার।  অবশেষে প্রথমবারের মতো কাপ্তাই যাওয়ার সৌভাগ্য হলো। অন্যদিকে এটি ছিল বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম সফর। সব মিলিয়ে অন্যরকম এক অনুভূতি কাজ করছিল। শিক্ষিকের আদেশ মতো সকাল সকাল নাস্তা না করেই বের হলাম। গন্তব্য নির্দিষ্ট স্থান থেকে বাসে ওঠা। কিছু সময় অপেক্ষার পর শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী ও কর্মচারী মিলিয়ে ৭০ থেকে ৮০ জনের এক বিশাল বহর নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হলো। কিছুদূর যাওয়ার পর নাস্তার বিরতি হলো। পুনরায় রওনা দিলাম। আর কিছু সময় পর আমরা একটি নৌঘাঁটিতে এসে পৌঁছাই। যেখান থেকে নৌকায় করে আমরা আমাদের গন্তব্যে পৌঁছাবো। পরে সবাই এক এক করে নৌকায় উঠতে শুরু করে। অবশ্য নৌ মাঝিকে আগে থেকেই বলে দেওয়া যে, তারা প্রতি নৌকায় নির্দিষ্ট পরিমাণ যাত্রী ওঠাবে।

 

 

প্রকৃতির মায়ায় আমি বসে পড়ি নৌকার একদম কর্ণারে। জায়গাটি একটু ঝুঁকিপূর্ণ বটে, তবে আমার জন্য বেশ উপভোগ্য ছিল। পরে আমার নৌকায় আমার বন্ধু আশেককে পেলাম। ঘণ্টাখানেক পর আমরা গন্তব্যস্থলে পৌঁছাই। নৌকা থেকে নেমে দেখি বিশাল আকৃতির উঁচু সব পাহাড়।

যা ছিল আমাদের মূল গন্তব্য। অবশ্য এটি ছিল একটি সেনাঘাঁটি। পরে ওপরে ওঠার পর সবাই মিলে শিক্ষকদের সাথে সেলফি তোলা, আবার কেউ কেউ কেনাকাটা কিংবা খাওয়া নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

কিছুদূর গিয়ে দেখি অপরূপ সৌন্দর্য ধারণকৃত কিছু স্থান, যা কি-না সত্যিই মুগ্ধ হওয়ার মতো। সেখানে বসে সত্যিই মৌন প্রশান্তি লাভ করা সম্ভব। কী অপরূপ দৃশ্য! মনোরম পরিবেশ। এ যেন মহান সৃষ্টিকর্তার অতুলনীয় কিছু সৃষ্টি। সময় কম থাকায় সব ক’টি স্থান দেখার সুযোগ হয়নি। পরে আবারো নৌকায় করে গেলাম অন্য এক গন্তব্যে। যেখানে আমাদের দুপুরের খাবার তৈরি করা ছিল। খাওয়া-দাওয়ার পালা শেষ হলে কিছু সময় বিশ্রামে কাটে। পরে আয়োজন করা হয় জাঁকজমকপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। যেখানে ছাত্রদের পাশাপাশি প্রিয় শিক্ষকদেরও পরিবেশনা ছিল। যা আমাদের সবাইকে আরো বেশি মুগ্ধ এবং মুখরিত করে তুললো। তখন মনে হচ্ছিল ভ্রমণের সব ক্লান্তি কোথায় যেন পালিয়ে গেছে! সবশেষে সন্ধ্যার নাস্তা। তারপর রওনা করি আমাদের নিজ বাসস্থানের দিকে।

অতঃপর ফেরার পথে মনে হতে লাগলো আর অনেককিছুই যেন দেখা বাকি রয়ে গেল। মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য আনন্দে তাঁরার মতো চিকচিক করছিল ভ্রমণকারীদের তৃষ্ণার্ত চোখ-মুখে। গাড়ি যত এগিয়ে যাচ্ছে ততোই মুগ্ধ হচ্ছি আর মনে হচ্ছে—‘এই পথ যদি শেষ না হতো, তবে কেমন হতো...!

ইচ্ছে করছিল না ফিরতে। তা আর সম্ভব হয় কী করে? সবার সাথে আমাকেও যে ফিরতে হবে!