ক্যাপসিকাম হলো বিদেশি মিষ্টি মরিচ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ক্যাপসিকামের চাষ হয়। ক্যাপসিকাম বিশেষ করে সালাদ, সব্জি, মাংসসহ বিভিন্ন রান্নার কাজে ব্যবহার করা হয়। আমাদের দেশে বিদেশ থেকে ক্যাপসিকাম আমদানি করা হয়। দেশে ক্যাপসিকামের চাহিদা থাকায় অনেক শিক্ষিত তরুণ যুবক বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ক্যাপসিকাম চাষের উদ্যোগ নিয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে আমাদের দেশে ক্যাপসিকাম চাষ হচ্ছে। সিলেট, চুয়াডাঙ্গা, গাজীপুর সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ক্যাপসিকাম চাষ করা হচ্ছে।
আমাদের দেশের মাটি এবং জলবায়ু ক্যাপসিকাম চাষের জন্য খুবই উপযোগী। ইতোমধ্যে যারা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ক্যাপসিকাম চাষ করেছেন তারা বেশ লাভবান হচ্ছেন। সাধারণত তিন বর্ণের ক্যাপসিকাম রয়েছে। সবুজ, লাল এবং হলুদ বর্ণের ক্যাপসিকাম উত্পন্ন হয়। আমাদের দেশে সবুজ বর্ণের ক্যাপসিকাম উত্পন্ন হচ্ছে। ক্যাপসিকাম চাষিরা জানান সারা বছর ধরে ক্যাপসিকাম উত্পন্ন হয়। তবে চারা রোপণের পর পাঁচমাস ধরে ফলন দেবে। প্রতিটি ক্যাপসিকাম গাছে এক থেকে দেড় কেজি ক্যাপসিকাম উত্পন্ন হয়। একবিঘা জমিতে ৪৫০০ থেকে ৪৮০০ চারা রোপণ করা যায়। প্রতিবিঘা জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ করতে খরচ পড়ে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। পাঁচ মাসে প্রতিবিঘা জমিতে ক্যাপসিকাম উত্পন্ন করে প্রায় ৪ লাখ টাকা আয় করা যায়। প্রতি কেজি ক্যাপসিকাম বাজারে বিক্রি হয় ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়।
দেশের বড় বড় সুপারশপ এবং বাজারে ক্যাপসিকাম পাওয়া যায়। আমাদের দেশে ক্যাপসিকামের চাহিদা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের মানুষের কাছে ক্যাপসিকামের আগ্রহ বাড়ছে। আমাদের দেশে অনেকেই ক্যাপসিকাম চাষের ব্যাপারে তেমন অবগত নন। লাভজনক এই ফসল চাষ তেমন কঠিন কিছু নয়। এব্যাপারে কিছু অভিজ্ঞতা নিয়ে চাষ করলে সফল হওয়া সম্ভব।
