বিপুল সম্ভাবনাময় ‘চ্যাটবট’

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:৫৬

 

চ্যাটবট আসলে কি? যখন নাম চ্যাটবট, অনেকটা রোবট এর মত নাম তাই আমাদের মাথায় প্রথমেই আসে এটা একটি রোবট? আজকের বিশ্ব কেন এটার প্রতি ঝুঁকছে? বিশ্বের নামি দামি প্রতিষ্ঠানগুলো কেন এর পিছনে কোটি কোটি টাকা ইনভেস্ট করছে? যদি আমরা সহজ ভাষায় বলি তাহলে এটি হচ্ছে কম্পিউটার প্রোগ্রাম আবার কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সরাসরি চ্যাট করে এবং প্রোগ্রামটি ব্যবহারকারীদের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য মুহূর্তের মধ্যেই সরবরাহ করে থাকে কোন প্রকার মানুষের সাহায্য ছাড়াই। কারণ এটি কোন মানুষ নয় এটি হচ্ছে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন একটি সফটওয়ার যাতে কোন ব্যবহারকারী প্রশ্ন করলে সে নিজে নিজেই উত্তর দিয়ে দেয়।

 

চ্যাটবট বানানোর উদ্দেশ্য

এটা বানানোর উদ্দেশ্য হচ্ছে ব্যবহারকারীদের এমন অনুভূতি দেয়া যাতে তারা মনে করে যে আসলে তারা কোন মানুষের সাথেই চ্যাট বা কথা বলছে। আসলে আমরা চ্যাটবটে যে মনের ভাবই প্রকাশ করি না কেন তা আগে থেকেই চ্যাটবটের ডেটাবেস এ বিশদভাবে সংরক্ষণ করা থাকে। চ্যাটবট সেই মনের ভাবটাকে ঠিকভাবে বুঝার জন্য কয়েক ন্যানো সেকেন্ডের মধ্যে সেটি অনেক স্মার্টলি এন্যালাইসিস করে লজিক্যালি একটা সমাধান বের করে তার ডেটাবেস থেকে। আর সেই সমাধানটিকে ব্যবহারকারীর চ্যাটবট এ দেখায় বা সরাসরি স্পিকারের মাধ্যমে উত্তর দেয়।

 অনেকগুলো কোম্পানি আছে যেগুলো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে চ্যাটবট বানিয়ে থাকে। আবার অনেক সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা অন্যান্য কোম্পানির ব্যবসার ধরন, উদ্দেশ্য ও চাহিদা অনুযায়ী তাদের হয়ে কাজ করে থাকে।

 

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চ্যাটবট যেভাবে কাজ করে?

আমাদের দেশে অনেক ব্যাংক আছে আবার এদের মধ্যে অনেক ব্যাংক আছে যারা গ্রাহকদের বিভিন্ন ইন্স্যুরেন্স পলিসির সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে। তো একজন গ্রাহককে এই ইন্স্যুরেন্স পলিসি নিতে হলে কি কি করতে হবে? প্রথমে সেই ব্যাংক এ যেতে হবে। কোন কাস্টমার এজেন্ট এর সাথে কথা বলতে হবে, তাদের কি কি ইন্স্যুরেন্স পলিসি আছে সেটা জানতে হবে, কি কি ডকুমেন্টস লাগবে সে সম্পর্কে জানতে হবে, বিভিন্ন ফরম পূরণ করে সেগুলো সাবমিট করতে হবে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রাহক এর সবকিছু ঠিক ঠাক আছে কিনা সেটা চেক করবে সব ঠিক থাকলে ফাইনালি আপনার নামে একটি ইন্স্যুরেন্স চালু হবে।

এখন যদি বলি এই সবগুলো কাজ আপনি ঘরে বসে মাত্র ১০/১৫ মিনিটেই কোন প্রকার ব্যাংক এর গ্রাহক এজেন্ট ছাড়াই শুধু মাত্র চ্যাটবট এর মাধ্যমেই সবগুলো ধাপই শেষ করতে পারবেন তাহলে কি অবাক হবেন? আসলে অবাক হবার কিছুই নেই। কারণ আপনি ঘরে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে চ্যাটবট কে জিজ্ঞাসা করতে পারবেন সেই ব্যাংক এর কি কি পলিসি আছে, কি কি ডকুমেন্ট লাগবে, চ্যাটবট কোন প্রকার মানুষের সাহায্য ছাড়াই আপনাকে একদম সঠিক তথ্য দিয়ে সাহায্য করবে। 

যেকোন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানেরই মূল কাজ তাদের গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ ও তাদের গ্রাহক সুবিধা প্রদান করা। আর এই যোগাযোগ এর ক্ষেত্রে কোন না কোন মাধ্যম ব্যবহার করতে হয় এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীর সাথে কথা বলতে হয়। আর এত কিছু যদি এক চ্যাটবটেই সমাধান হয় তাহলে সুদূর ভবিষ্যতে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে কতটা বিপ্ল­ব হতে চলেছে তা আপনারা নিমিষেই অনুমান করতে পারেন। সামনের ভবিষ্যতে আমরা শুধু ব্যাংকিং সেক্টরেই নয় যেকোন ব্যবসায়িক সেক্টরেই যেকোন গ্রাহক সুবিধা পেতে চ্যাটবটই হবে আমাদের একমাত্র সঙ্গী।

বিশ্বের অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান এখন এই চ্যাটবট এর পিছনে ইনভেস্ট করছে তাদের কোম্পানির গ্রাহক সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে ও নিজেদের কাজের চাপ কমাতে। এরই মধ্যে অনেক কোম্পানি চ্যাটবটের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে। এমনকি আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এর ব্যবহার শুরু হয়ে গিয়েছে। আশার কথা হচ্ছে বাংলাদেশেও কয়েকটি কোম্পানি চ্যাটবট এর জন্য ইনভেস্টমেন্ট শুরু করেছে। হয়ত কিছুদিনের মধ্যেই আমরা এর ব্যবহার বাংলাদেশেও দেখতে পারব।