জেএমআই-তমা কনস্ট্রাকশনের দুই জনকে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২০, ২২:৪৯

করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যে মাস্ক, পিপিই ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সরঞ্জাম কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জেএমআই হসপিটাল রিক্যুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ও তমা কনস্ট্রাকশনের সমন্বয়কারী (মেডিক্যাল টিম) মতিউর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে সকাল সোয়া ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত টানা পাঁচ ঘণ্টা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদকের পরিচালক প্রধান মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে একটি টিম। ঐ টিমের অপর সদস্যরা হলো- উপপরিচালক নুরুল হুদা, সহকারী পরিচালক মো. সাইদুজ্জামান ও আতাউর রহমান।

এদিকে গতকাল দুদকের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কার্যালয়ে হাজির হবার কথা থাকলেও যাননি এলান করপোরেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম আমিন। তিনি গতকাল দুদকের প্রধান কার্যালয়ে অসুস্থতার কথা (করোনায় আক্রান্ত) জানিয়ে সময় আবেদন করেছেন। তবে তিনি করোনা আক্রান্ত কি না, সে ব্যাপারে দুদকের কর্মকর্তারা নিশ্চিত নন।

অপরদিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জেএমআই চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য তারা (দুদক) আমার বক্তব্য নিয়েছেন। আমি যা বলার তাদের কাছেই বলেছি। অপরদিকে তমা কনস্ট্রাকশনের সমন্বয়কারী মতিউর রহমান বলেন, আমাদের দায়িত্ব ছিল তিন লাখ মাস্ক সরবরাহ করা। সেখানে ৬০টির মতো মাস্ক কম হয়েছে। এটা কোনো কারচুপি বা অনিয়ম না।

অপরদিকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে দুদকের সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত সাংবাদিকদের বলেন, করোনা ভাইরাসের মধ্যে মাস্ক, পিপিইসহ অন্যান্য জিনিসপত্র সরকারের বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহ করার ক্ষেত্রে যে চুক্তি ছিল সেখানে দুর্নীতি বা অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে। এসব অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। কারা এসব দুর্নীতি-অনিয়মের সঙ্গে জড়িত তাদেরকে বের করার জন্যই এই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, নিম্নমানের মাস্ক, পিপিই ও অন্যান্য            স্বাস্থ্য সরঞ্জাম কেনায় দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে গত ১ জুলাই দুদক জেএমআই, তমা কনস্ট্রাকশন, এলান করপোরেশন, মেডিটেক ইমেজিং এবং লেক্সিকোন মার্চেন্ডাইজ ও টেকনোক্র্যাট লিমিটেড এর ৫ কর্মকর্তাকে তলবি নোটিশ পাঠায়। তলবকৃত নোটিশ অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার মেডিটেক ইমেজিং লিমিটেডের পরিচালক মো. হুমায়ুন কবির ও ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের চেয়ারম্যান ও লেক্সিকোন মার্চেন্ডাইজ ও টেকনোক্র্যাট লিমিটেডের মালিক মো. মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা কথা রয়েছে।

দুদকের তলবকৃত নোটিশে  বলা হয়েছে, ‘স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কোভিড-১৯ এর চিকিত্সার নিমিত্ত নিম্নমানের মাস্ক, পিপিই ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সরঞ্জামাদি কেনাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহের নামে অন্যান্যদের যোগসাজশে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত্ করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের বক্তব্য শোনা এবং গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। নির্ধারিত সময়ে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে ব্যর্থ হলে বর্ণিত অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য নেই বলে গণ্য করা হবে।’