টিভি টকশো সাহেদের প্রতিপত্তি বাড়িয়ে দেয়

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২০, ২২:৫৫

রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মোহাম্মদ সাহেদের হালআমলে বহুমুখী প্রতারণা, জালিয়াতি ও প্রভাব-প্রতিপত্তির ভিত তৈরির ক্ষেত্রে অন্যতম মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে কয়েকটি টেলিভিশনের টকশো। নিয়মিত টকশোতে অংশ নিয়ে নিজেকে আওয়ামী লীগের ও সরকারের প্রভাবশালী লোক হিসেবে জাহিরের সব ধরনের চেষ্টা-কসরত করতেন সাহেদ। কার্যত টকশোর মাধ্যমেই সাম্প্রতিক সময়ে সমাজে, রাজনীতিতে ও প্রশাসনে এক ধরনের প্রভাববলয় তৈরি করেন তিনি।

এ কারণে কোভিড-১৯ পরীক্ষার নামে সাহেদের হাসপাতালের বড় ধরনের জালিয়াতি উদ্ঘাটনের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে টকশোতে আসা সাহেদের মতো অতিথিদের গুণ-মান নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। যাদের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন টকশোতে অংশগ্রহণের সুযোগ             করে নিয়েছেন, তাদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি উঠেছে ফেসবুকসহ প্রায় সব মহলে।

নিজেকে কখনো অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, কখনো সচিব, কখনো রাজনীতিবিদ আবার কখনো সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাসহ স্থানভেদে বহু পরিচয় দেওয়া সাহেদকে শুরুর দিকে টিভি টকশোতে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় ‘রাজনীতি বিশ্লেষক’ হিসেবে। প্রথমদিকে দু-একটি টেলিভিশনের নির্ধারিত টকশোতে অংশ নিতেন তিনি। সময়ের পরিক্রমায় এর পরিধি বাড়ে। শুরুতে তাকে টকশোতে আনার পেছনে যারা ভূমিকা রেখেছেন, তাদের দেনদরবারে ধীরে ধীরে আরো কয়েকটি টিভির টকশোতে অতিথি হন তিনি। পরবর্তীতে নানা কায়দা-কৌশলে টকশোতে শক্ত ভিত গড়ে নেন চতুর সাহেদ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, নগদ অর্থসহ নানা ধরনের উেকাচ দিয়ে টকশোতে অতিথি হতেন সাহেদ। কেন তাকে নিয়মিত টকশোতে আনা হতো—এই প্রশ্ন তুলে খোদ টকশো সংশ্লিষ্টরা এবং গণমাধ্যম কর্মীসহ অনেকেই মন্তব্য করেছেন, যাদের মাধ্যমে সাহেদ টকশোতে নিত্যমুখ হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন তাদেরও শাস্তির আওতায় আনা উচিত।

রাজনৈতিক পরিচয় না থাকায় শুরুতে টকশোতে সাহেদকে ‘রাজনীতি বিশ্লেষক’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হলেও, পরবর্তীতে টকশোতে তার পরিচয় দেওয়া হয় আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য হিসেবে। এই পরিচয়ে টকশোতে গিয়ে প্রতিপক্ষ বিএনপি দলীয় বা এ ঘরানার আলোচককে অনেকসময় নাস্তানাবুদ করে ছাড়তেন সাহেদ। কারো কারো অভিযোগ, টকশোর আগে-পরে মতান্তর নিয়ে বিতর্ককে কেন্দ্র করে কাউকে কাউকে টেলিভিশনের অফিসে বসেই গ্রেফতার করিয়ে দেওয়ার কিংবা ‘দেখে নেওয়া’র হুমকি দিতেন। আর টকশোতে ঘন ঘন বলতেন ‘আমরা যারা আওয়ামী লীগ করি’ ‘আজ আমার সঙ্গে....মন্ত্রীর কথা হলো’ ‘আমার সঙ্গে একটু আগে কথা হয়েছে..দপ্তরের..অফিসারের সঙ্গে’ ‘কথা হয়েছে আওয়ামী লীগের...নেতার সঙ্গে’। সাহেদের সঙ্গে একাধিক টকশোতে অংশ নেওয়া কয়েকজন জানান, এসব কথার মাধ্যমে সাহেদ মূলত প্রশাসনে প্রভাব বিস্তারের ও প্রতারণার ফাঁদ পাততেন।