পরিবারের উপার্জনসংকটে লাখো শিশু ক্ষুধার্ত, বাড়ছে শিশুশ্রম ও ভিক্ষাবৃত্তি

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২০, ০০:২৬

কোভিড-১৯-এর প্রভাবে পরিবারের আয় হ্রাসের ফলে পিতামাতা ও অভিভাবকদের চাপ তৈরি হওয়ায় শিশুরা ক্রমাগত নিঃসঙ্গতা অনুভব করছে। এছাড়া পরিবারের উপার্জন সংকটে লাখো শিশু ক্ষুধার্ত, বাড়ছে শিশু শ্রম ও ভিক্ষাবৃত্তি। এদের সুরক্ষায় প্রাধান্য দেওয়া উচিত বলে মনে করছে ওয়ার্ল্ড ভিশন। ‘আউট অব টাইমস’ শিরোনামে গতকাল বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথাই বলছে প্রতিষ্ঠানটি।

ওয়ার্ল্ড ভিশনের পর্যবেক্ষণে আরো বলা হয়, কোভিড-১৯-এর অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবে শিশুর ক্ষুধা, সহিংসতা এবং দারিদ্র্য বৃদ্ধির যে বৈশ্বিক আশঙ্কা করা হয়েছিল তা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। যার কারণে এশিয়া অঞ্চলে ৮ দশমিক ৫ কোটি পরিবারের সঞ্চিত খাবার অপ্রতুল বা নেই বললেই চলে এবং ১১ কোটি শিশু ক্ষুধার্ত থেকে যাচ্ছে। উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন বলছে, পিতামাতার পর্যাপ্ত খাবার কেনার সামর্থ্যের অভাবে এশিয়া অঞ্চলের ৮০ লাখ শিশু ভিক্ষাবৃত্তি, শিশুশ্রম এবং বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন ন্যাশনাল ডিরেক্টর চন্দন গোমেজ বলেন ‘সম্প্রতি পরিচালিত একটি র্যাপিড অ্যাসেসমেন্টে দেখা গেছে, বাংলাদেশে শতকরা ৮৭ ভাগ শিশু মানসিক চাপে আছে এবং লকডাউনের প্রভাবে পরিবারের আয় কমে যাওয়ায় আরো ৮৭ ভাগ শিশু উদ্বিগ্ন । শিশু, গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। কেননা এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে খাপ খাওয়ার কৌশল হিসেবে তাদের চাহিদার চেয়ে কম খাবার গ্রহণ করতে হচ্ছে।

ওয়ার্ল্ড ভিশনের গ্লোবাল ইমপ্যাক্ট বিষয়ক পার্টনারশিপ লিডার রবাট শু বলেন, লাতিন আমেরিকা, সাব-সাহারান আফ্রিকা এবং এশিয়ায় এই র্যাপিড অ্যাসেসমেন্ট পরিচালনা করা হয়। যার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে এই মহামারিতে সংকটের শীর্ষে এখন শিশুরা। ‘প্রতিটা অ্যাসেসমেন্ট থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে উপার্জন ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, খাদ্য ক্রয়ের সামর্থ্যের অভাবে পরিবারগুলোর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে নিতে কষ্ট হচ্ছে যা শিশুদের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।’