দেশি কোচেই আস্থা মোহামেডানের

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:০১

স্পোর্টস রিপোর্টার

ব্রিটিশ কোচ ক্রিস্টোফার ইভান আসবেন কিনা তা নিশ্চিত না। মোহামেডান ক্লাবের কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন আসবেন। গতকালই তার ঢাকা আসার কথা ছিল। তবে বিদেশি কোচের দিকে না থাকিয়ে থেকে শেষ পর্যন্ত দেশি কোচ আলী আজগর নাসিরকে ফুটবল প্রশিক্ষণের দায়িত্ব দিয়েছে মোহামেডান। কঠিন চ্যালেঞ্জ হাতে নিয়ে মোহামেডানের প্রশিক্ষণের দায়িত্ব পালন করতে ক্লাব টেন্টেই এখন তার অবস্থান।

ফেডারেশন কাপ ফুটবল এবং স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের গ্রুপ পর্ব হতে বিদায় নিয়েছে মোহামেডান। সামনে লিগ। আশংকা করা হচ্ছে লিগে কোনো বাজে অবস্থার মুখোমুখি হয় কিনা। কোনো বাজে অবস্থার মুখোমুখি হতে দেবে না নতুন কোচ আলী আজগর নাসির। তিনি জানিয়েছেন, মোহামেডান এতো খারাপ দল না যে, নেমে যাবে। সঠিক পরিচর্যা পেলে এই মোহামেডানই লিগে বদলে যাবে। কোচ নাসির লিগের প্রথম তিনটা ম্যাচ দেখতে চান। প্রথম ম্যাচে যদি ভালো কিছু করা যায় তাহলে লিগের বাকি পথ এগিয়ে যাবে সাদাকালো দল।

স্বাধীনতা কাপের পর মোহামেডান ১২ দিন অনুশীলন করেনি। নাসির বললেন, একটা দল যদি ১২ দিন অনুশীলন না করে তার আর থাকে কি। আমি কোচ থাকলে একদিনও ছুটি দিতাম না। ১২ দিন ছুটি কাটিয়ে খোকন ফিরেছেন অনুশীলনে। তিন দিন না যেতেই আবার ছুটিতে গিয়েছিলেন ভাইয়ের মৃত্যুতে। সেখানেও গেছে ১২ দিন।

তার উপর আরেক ডিফেন্ডার মিন্টু শেখ নেই। আমার রক্ষণ যদি না থাকে খেলাবো কিভাবে। যাই হোক আশাকরি সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে। আমি অনুশীলনের সময়টা কম পেয়েছি। সামনে লিগ, এখন পাওয়ার ট্রেনিং কিংবা স্পিড ট্রেনিং নয় এখন হচ্ছে গেম প্ল্যানের সময়। নাসির ঢাকার ফুটবলে পরীক্ষিত কোচ। যে কোনো বিপথগামী ক্লাবকে তুলে আনার মন্ত্র জানেন। তাকে ক্লাব কর্তৃপক্ষ যদি সঠিক সহায়তা করে তাহলে নামযশহীন ফুটবলার ছাড়াও ভালো রেজাল্ট এনে দিতে পারেন। খুলনা আবাহনীকে এগিয়ে নিয়েছিলেন শুধু দেশি ফুটবলারদের শক্তির উপর ভর করে। চট্টগ্রাম আবাহনী, মুক্তিযোদ্ধা, রহমতগঞ্জ, বিজেএমসির কোচ ছিলেন পেশাদার ফুটবলের বড় মঞ্চে। তার কোচিংয়ে মোহামেডান হেরেছে। ব্রাদার্স, আবাহনী, শেখ রাসেল হেরেছিল। আবাহনী জাতীয় দলের আর্জেন্টাইন কোচ আন্দ্রেস ক্রুসিয়ানীকে এনেও পারেনি। অনেক উদাহরণ আছে তার কোচিং ক্যারিয়ারে। ফুটবলে সততা অসততার একটা বিষয় কাজ করে ঘরোয়া ফুটবলে কাজ করতে গিয়ে বি লাইসেন্সধারী কোচ নাসির বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছিলেন। কিন্তু পেশার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে অশুভ শক্তির কাছে হার মানতে রাজি হননি নাসির।

ঢাকার মাঠে ৮০র দশকে ইষ্ট এন্ড ক্লাব, ওয়ারী ক্লাব, ফরাশগঞ্জে খেলেছেন তিন কন্যা ১ পুত্রের জনক খুলনার ছেলে নাসির। বিদেশি কোচ আসলেও তাকে রাখা হবে না বলে ক্লাবের একটি সূত্র জানায়। আর যদি রাখা হয় তাহলে? আলী আজগর নাসির বললেন, ‘আমি কারো সহকারী হয়ে থাকতে রাজি না।’