করোনা বদলে দিয়েছে পুরো পৃথিবীর দৃশ্যপট। সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। বন্ধ আউটডোর খেলাধুলাও। এ সময়ে ঘুড়ি নিয়ে মেতেছেন শেরপুরের তরুণ প্রজন্ম। বাহারি ঘুড়িতে ছেয়ে গেছে শেরপুরের আকাশ। লাল, নীল, সবুজ, হলুদ, বেগুনি নানা রঙের ঘুড়ি আকাশে উড়ছে। রঙের মেলা বসেছে যেন আকাশজুড়ে। দিন-রাত আকাশে শোভা পাচ্ছে নানা রঙের ঘুড়ি। বিশেষ করে রাতের আকাশে বাতিঅলা ঘুড়ির ঝলমলে আলো দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন এলাকার মানুষ।
প্রতিটা বিকেল আনন্দে পার করছেন ঘুড়িপ্রেমীরা। ঘুড়ি বানানোর ধুম পড়েছে। ছোটো-বড়ো নানা বয়সী মেতেছেন এই ঘুড়ি উত্সবে। সকাল-বিকেল নদীর পারে, বাড়ির ছাদে, খোলা মাঠে, খালি জায়গায় ঘুড়ি ওড়াতে দেখা যায়।
আকাশে ওড়ার সময় দেখতে অনেকটা উড়ন্ত চিলের মতো লাগে বলে একে ‘চিল ঘুড়ি’ বলা হয়। মাছ বা প্রজাপতির আকারেও ঘুড়ি বানানো হয়। বড়ো আকৃতির অন্য একটি ঘুড়ির নাম উড়োজাহাজ ঘুড়ি। এটি আকাশের অনেক ওপরে ওড়ে। এছাড়াও আছে ঘর ঘুড়ি, সাপ ঘুড়ি, মানুষ ঘুড়ি, চারকোনা আকৃতির বাংলা ঘুড়ি, ড্রাগন ঘুড়ি, বক্স ঘুড়ি, মাছরাঙা ঘুড়ি, ঈগল ঘুড়ি, ডলফিন ঘুড়ি, অক্টোপাস ঘুড়ি, সাপ ঘুড়ি, কামরাঙা ঘুড়ি, চরকি লেজ ঘুড়ি, বেত ঘুড়ি, চিলা ঘুড়ি, ঢোল ঘুড়ি ইত্যাদি।
রাতে ওড়ানোর জন্য ঘুড়িতে যুক্ত করা হচ্ছে ব্যাটারিচালিত লাইট, যা ঘুড়িতে জ্বলতে দেখা যায়। ঘুড়ি ওড়ানোকে কেন্দ্র করে বিক্রি হচ্ছে ঘুড়ি তৈরির বিচিত্র উপকরণও। সেইসঙ্গে কদর বেড়েছে ঘুড়ি তৈরির কারিগরদের।
শিক্ষক আকাব্বর আলী জানান, ছেলেদের ঘুড়ি ওড়ানো দেখে ফেলে আসা সোনালি অতীতের স্মৃতি রোমন্থন করি। উপজেলা শহর থেকে ঘুড়ি ওড়ানো দেখতে আসা শিক্ষক মোশারফ হোসেন বললেন, বাসায় দীর্ঘদিন অবস্থান করার ফলে অনেকের মধ্যেই ক্লান্তি ও অবসাদ ভর করছে। অনেকেই ঘুড়ি উড়িয়ে সেই ক্লান্তি ও অবসাদ ঝেড়ে ফেলতে চাইছেন। মুক্ত আকাশে ঘুড়ি উড়িয়ে বদ্ধ হয়ে থাকা এক মানসিক যন্ত্রণা থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি মিলছে।
এদিকে ঘুড়ির কারিগর নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনার বাসিন্দা ফুরকান আলী কথা প্রসঙ্গে জানালেন, এর আগে কখনো এত ঘুড়ি ওড়াতে দেখিনি। সাধারণত শীতকাল থেকে বসন্তকাল পর্যন্ত ঘুড়ি ওড়াতে দেখা যেত। এবার গরমের মধ্যেও ঘুড়ি ওড়াতে দেখা যাচ্ছে। লকডাউনে ঘরবন্দি তরুণরা ঘুড়ি বেশি ওড়াচ্ছে। প্রতিদিন ঘুড়ি তৈরি করি। অনেক ছেলে ঘুড়ির জন্য আসে। আমি তাদের পছন্দ অনুযায়ী নানান ধরনের ঘুড়ি তৈরি করে দিই।
