ক্রিকেটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২০, ২১:৫১

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে এক রাউন্ড পরই স্থগিত হয়ে গিয়েছিল ২০১৯-২০ মৌসুমের বঙ্গবন্ধু ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ। এর মধ্যে চার মাস কেটে গেছে। দেশে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। ক্রিকেটও মাঠে ফেরেনি। ক্রিকেটারদের অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে না। এই অনিশ্চিত অপেক্ষার কারণেই হয়তো ক্রিকেটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

একটা পক্ষ চাচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে প্রিমিয়ার লিগ শুরু হোক। তারা সবাই এই লিগের ওপরই নির্ভরশীল ও বিসিবির বেতনভুক নন। প্রিমিয়ার লিগই তাদের উপার্জনের মূল উত্স। দেশের অন্য সব কিছুর মতো স্বাস্থ্যবিধি ও নিয়মকানুন মেনে লিগ খেলতে প্রস্তুত তারা।

আবার বিসিবির বেতনভুক যারা আছেন তারাও লিগ খেলতে চান। তবে তারা আরো একটু অপেক্ষা করার পক্ষপাতী। পরিবেশ আরো ভালো হলে লিগ শুরুর কথা বলছেন। আর্থিক নিরাপত্তা থাকায় ঝুঁকির পথে হাঁটতে চান না জাতীয় দলের অনেক ক্রিকেটার।

গত মঙ্গলবার রাতে কোয়াবের (ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) আয়োজনে অনলাইন মিটিংয়ে জাতীয় দলের এক সিনিয়র ক্রিকেটারের বক্তব্যে অসন্তোষ ছড়িয়েছে ক্রিকেটারদের মধ্যে। সরাসরি আপত্তি না জানালেও লিগ শুরু নিয়ে তার বক্তব্য মনে ধরেনি অনেকেরই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ক্রিকেটার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঐ ক্রিকেটারের ভূমিকায়।

গতকাল এক ক্রিকেটার বলেছেন, ‘উনি বলেছেন, আপনারা সবাই সিদ্ধান্ত নিলে খেলব সেটা কোনো সমস্যা নয়। কিন্তু যদি খেলা শুরু হয় তাহলে এটা হতে পারে, ওটা হতে পারে, তখন আমাদের কী হবে? উনার কথা এমন যে, এ সময়ে খেলা দরকার কি?’

মিটিংয়ে উপস্থিত থাকা ক্রিকেটার তুষার ইমরান ও নুরুল হাসান সোহান অবশ্য বলেছেন, লিগ শুরু নিয়ে কেউ আপত্তি করেনি। গতকাল জানতে চাইলে সোহান বলেন, ‘এমন কোনো কিছু কেউ বলেনি। আপত্তি করেনি কেউ। বলা হয়েছে, পরিবেশের উন্নতি হলে যেন লিগ শুরু করা হয়। আগস্টের শেষ দিকে বা সেপ্টেম্বরে যেন লিগ শুরু করা যায় এই আলোচনা হয়েছে।’

মঙ্গলবার রাতে কোয়াবের মিটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন লিগ নিয়ন্ত্রক সিসিডিএমের (ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলি) চেয়ারম্যান কাজী ইনাম ও বিসিবির সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী। ক্লাবগুলোকে প্রস্তুত থাকতে বলেছেন সিসিডিএম চেয়ারম্যান। যাতে সিসিডিএম ডাকার পর ১৫ দিনের মধ্যে লিগ খেলতে নামতে পারে।

আবাসন, স্বাস্থ্যবিধি মানা ও আইসোলেশন ব্যবস্থার কথা চিন্তা করে লিগের বাকি রাউন্ডগুলো কক্সবাজার ও বিকেএসপিতে আয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন কাজী ইনাম। তিনি বলেছেন, ‘আমি কক্সবাজার অথবা বিকেএসপিকে বিকল্প ভেন্যু হিসেবে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছি। সব খেলোয়াড় এবং ক্লাব পরিচালনায় যুক্তদের জন্য কঠোরভাবে আইসোলেশন ব্যবস্থা মেনে চলতে হবে।’