বার্সেলোনার সর্বকালের সেরা পাঁচ গোলদাতা
লিওনেল মেসি ৬৩০ গোল
চেজার রদ্রিগেজ ২৩৪ গোল
লুই সুয়ারেজ ১৯৫ গোল
লাজলো কুবালা ১৯৪ গোল
জোসেপ সামিতিয়ের ১৮৪ গোল
বার্সেলোনা আর এস্পানিওলের চূড়ান্ত উদ্দেশ্যটা ভিন্ন হলেও প্রাথমিক লক্ষ্যটা ছিল অভিন্ন, জয়। কাতালান ডার্বিতে লুই সুয়ারেজের মাইলফলক ছোঁয়া গোলে সে লক্ষ্য বার্সা পূরণ করেছে, তাতে কপাল পুড়েছে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী এস্পানিওলের। গত বুধবার রাতে ১-০ ব্যবধানের এ হারের ফলেই ২৭ বছর পর আবারও সেগুন্ডা ডিভিশনে নেমে গেছে দলটি।
লিগ জিততে হলে বার্সেলোনাকে নিজেদের ম্যাচগুলো তো জিততে হবেই, রিয়াল মাদ্রিদের ফলাফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে। এ অবস্থায় একটা পয়েন্টও হারানো মানে লিগ জেতার আশা শেষই হয়ে যাওয়া। অন্য দিকে সফরকারী এস্পানিয়লের লক্ষ্য ছিল কোনোক্রমে অবনমন ঠেকানো। যা করতে হলে বাকি সব ম্যাচে জয় ছাড়া উপায় ছিল না তাদেরও।
এ সমীকরণ সামনে রেখে নিজেদের মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই বার্সেলোনা ম্যাচের দখল নেয়। তবে এস্পানিওলের জমাট রক্ষণ ভাঙতে বেগ পেতে হচ্ছিল লিওনেল মেসি, আন্তনিও গ্রিজমান ও সুয়ারেজদের। উলটো প্রতি আক্রমণে ত্রাস ছড়াচ্ছিল এস্পানিয়লই। শুরুর আধা ঘণ্টায় গোটা দুই চেষ্টা বার্সা গোলরক্ষক মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগেন না ফেরালে হয়তো গল্পটা লেখা হতে পারত অন্যরকমভাবেই! শেষ পর্যন্ত সেটা হয়নি, গোলশূন্য থেকেই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে যায় সম্পূর্ণভাবে। বিরতির পরপরই বদলি হিসেবে মাঠে নামা বার্সা ফরোয়ার্ড আনসু ফাতি ৫০তম মিনিটে দেখেন লাল কার্ড। এর মিনিট দুয়েক পর একই পরিণতি বরণ করতে হয় এস্পানিয়ল মিডফিল্ডার পল লোজানোকেও!
প্রথমার্ধে নিষ্প্রভ সুয়ারেজ এরপর আসেন পাদপ্রদীপের আলোয়, ৫৬ মিনিটে দলের একমাত্র গোলটি করেন। এর ফলে কিংবদন্তি বার্সেলোনা স্ট্রাইকার লাজলো কুবালাকে (১৯৪ গোল) ছাড়িয়ে বার্সেলোনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষ তিনে উঠে আসেন তিনি।
নিজের এ কীর্তির পর গর্ববোধ করলেও সুয়ারেজ জানালেন, দলের লক্ষ্যটাকেই বড় করে দেখছেন তিনি। বললেন, ‘বিশ্বসেরা ক্লাবের হয়ে খেলাটা দারুণ ব্যাপার। এখানকার সর্বকালের সেরা তিন গোলদাতার একজন হতে পেরে আমি গর্বিত। তবে এখন আমাদের লক্ষ্য তিন ম্যাচই জেতা। এরপর আমাদের প্রতিপক্ষের হারের ব্যাপারে ভাবতে হবে।’
তার একমাত্র গোলটির সুবাদে বার্সেলোনা ম্যাচটা জেতে ১-০ ব্যবধানে, এক ম্যাচ বেশি খেলে শীর্ষে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ব্যবধানটা নামিয়ে আনে ১ পয়েন্টে। আর বার্সার কাছে হেরে কপাল পোড়ে এস্পানিওলের, ৮৯ বছরের লিগ ইতিহাসে পঞ্চম আর ১৯৯৩ সালের পর প্রথমবারের মতো সেগুন্দা দিভিশনে নেমে যায় দলটি।
