ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের অভিযোগ দুদকে

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২০, ২২:৩৬

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিরন অর রশিদের বিরুদ্ধে গত ৪ বছর ধরে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির প্রায় আড়াইশ ভুয়া কার্ড দেখিয়ে চাল উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে ঐ ইউনিয়নের বাহারি নগর গ্রামের বাসিন্দা ও বজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ইকবাল হোসেন চৌধুরী দুদকের (দুর্নীতি দমন কমিশন) চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বর্তমানে অভিযোগটি দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, নোয়াখালী তদন্ত করছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি অনুযায়ী ১০ টাকা কেজি দরের ৩০ কেজি চাল হতদরিদ্র প্রতিটি পরিবার বছরে পাঁচ মাস পাবে। এ কর্মসূচির আওতায় বজরা ইউনিয়নে ৮৪২ জন হতদরিদ্রের তালিকা চূড়ান্ত করে তাদের জাতীয় পরিচয় পত্র দেখে কার্ড দেওয়া হয়। ৮৪২ জন            কার্ডধারীর মধ্যে প্রায় আড়াইশ কার্ডধারী কাগজে কলমে থাকলেও তারা চাল পায়নি। অথচ ভুয়া কার্ড দেখিয়ে মাস্টাররোলের মাধ্যমে ২৪৬ জনের চাল দীর্ঘ ৪ বছর যাবত্ উত্তোলন করে চেয়ারম্যান তা আত্মসাত্ করে আসছেন। এছাড়াও সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রণয়নেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। নিয়মানুযায়ী প্রতি ওয়ার্ডে ৯৪ জন করে হতদরিদ্রের তালিকা চূড়ান্ত করার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান তার নিজ ওয়ার্ডে (৪নং ওয়ার্ড) ২২৩ জনকে তালিকাভুক্ত করেছেন, যাদের মধ্যে একই পরিবারের দুই জনের নামও রয়েছে। আবার অনেকেই চাল পায়নি। তালিকায় অনেক প্রবাসী পরিবারের সদস্যের নামও রয়েছে। চেয়ারম্যানের এ সকল অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের তালিকা উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষকদের দিয়ে পুনঃযাচাই করান। এতে ২৪৬টি কার্ডে অনিয়ম ধরা পড়ে।

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান মিরন অর রশিদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও হতদরিদ্রদের তালিকা প্রণয়নের সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ঐ তালিকা ২০১৬ সালে প্রণয়ন হয়েছে। দুদকে অভিযোগকারী আমার প্রতিপক্ষের লোক।

সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিনা পাল জানান, কার্ড নিয়ে নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাধ্যমে এগুলো যাচাই বাছাই করেছেন। এতে কিছু অনিয়ম পাওয়া গেছে। সেজন্য সব কার্ড বাতিল করা হয়েছে। নতুনভাবে সুবিধাভোগীদের তালিকা করে চূড়ান্তভাবে নতুন কার্ড ইস্যু করা হবে।

এ ব্যাপারে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় নোয়াখালীর উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, তার কার্যালয়ের এক জন উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছেন। কিছু কিছু অনিয়ম পরিলক্ষিত হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।