পাকিস্তানে ফের সেনা অভ্যুত্থানের ছক!

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২০, ২২:৩৬

পাকিস্তানে কী ফের সেনা বিদ্রোহের ঘুঁটি সাজানো হচ্ছিল? সম্প্রতি দেশটির সেনাবাহিনীর তিন জেনারেলসহ ৬০ গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার খবরে এই জল্পনা চরমে উঠেছে। গতকাল কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় এসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে বরখাস্ত করা সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, একটি গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বার্তা চালাচালি করেছেন তারা। পাকিস্তানে সামরিক বাহিনীর স্পর্শকাতর ক্ষেত্রে স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও সেনাবাহিনীর ঐ পদস্থ কর্মকর্তারা একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রচুর বার্তা আদান-প্রদান করেছেন বলে অভিযোগ। এরপরই লেফটেন্যান্ট জেনারেল আব্দুল্লাহ ডোগার, লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইজাজ চৌধুরী এবং জেনারেল বিলাল আকবরসহ বিভিন্ন ইউনিট থেকে মোট ৬০ জন সেনা কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে পাকিস্তান সেনা। তারপর থেকেই নানা মহলে জল্পনা যে স্মার্টফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার প্রাথমিক কারণ হলেও মূল কারণ সেনা বিদ্রোহের পরিকল্পনা হতে পারে।

সরকারিভাবে ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে এ নিয়ে কেউ          মুখ খোলেননি। আবার বড় কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমেও এই খবর নেই। পাকিস্তানের মিডিয়ায়ও এ নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কর্তৃত্ব কমা এবং সরকারে সেনাবাহিনীর আধিপত্য বৃদ্ধিসংক্রান্ত একাধিক খবরের ভিত্তিতে সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। ‘সিন্ধুদেশ’ নামের একটি টুইটার হ্যান্ডলে লেখা হয়েছে, একটি গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য হওয়ার অভিযোগে ঐ তিন জেনারেলসহ ৬০ জনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে সেনা বিদ্রোহের পরিকল্পনার জন্যই যে তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে এমন খবর নিশ্চিত করে বলা হয়নি ঐ টুইটার হ্যান্ডলেও।

অন্য একটি সম্ভাবনা অবশ্য উঠে এসেছে। গত বছরের নভেম্বরেই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান হিসেবে কামার বাজওয়ার মেয়াদ আরো তিন বছর বাড়ান ইমরান খান। সেই সিদ্ধান্তের জেরে ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত তিনি সেনাপ্রধানের দায়িত্বে থাকবেন। কিন্তু এই সিদ্ধান্তে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে একাংশের মধ্যে ক্ষোভ জন্ম নিয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে ঐ অংশের কামার বাজওয়ার প্রতি আনুগত্যও কমার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধাচরণের পরিকল্পনাও চলছিল বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ঐ গোষ্ঠীকে ছেঁটে ফেলতেও এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। আবার এই সিদ্ধান্তে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে বলে একটি সূত্রে জানানো হয়েছে। ফলে অন্য কোনো গোষ্ঠীও বিদ্রোহ ঘোষণা করতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানে ৭২ বছরের ইতিহাসে সেনা অভ্যুত্থানের নজির রয়েছে একাধিকবার। কখনো তা সফল হয়ে ক্ষমতায় এসেছেন সেনা শীর্ষ কর্তা। উদাহরণ পারভেজ মোশাররফ। কখনো কড়া হাতে দমন করা হয়েছে। আবার সম্প্রতি একাধিক আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে যে ইমরান খান সরকারে আধিপত্য বাড়ছে সেনাবাহিনীর। দেশে জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি, বেহাল অর্থনীতির মতো একাধিক ইস্যুতে ‘কাপ্তান’ ইমরান খানের জনপ্রিয়তা ও কর্তৃত্ব দুইটাই কমছে বলে মনে করেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। আর সেই সুযোগে ইমরানের ওপর চাপ বাড়ছে সেনাবাহিনীর। সরকারের অভ্যন্তরে সেনা কর্মকর্তাদের নিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কূটনৈতিক শিবিরের একটা বড় অংশ মনে করেন, সরকারের শীর্ষ পদে এভাবে সেনা কর্মকর্তাদের নিয়োগ করা হলে সেনা অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এসব প্রেক্ষাপটের দিকে নজর দিলেও সেনা কর্মকর্তাদের বরখাস্ত হওয়ার ঘটনা এবং অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।