ভারত হল প্রতিভার পাওয়ার হাউস: মোদি

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২০, ২৩:৩৭

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছে, এই সময়ে পুনর্জাগরণের বিষয়ে কথা বলা স্বাভাবিক। বৈশ্বিক পুনর্জাগরণ এবং তার সাথে ভারতের সম্পৃক্ততাও স্বাভাবিক। সবাই বিশ্বাস করে বৈশ্বিক পুনর্জাগরণে ভারত অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। আমি এর দুটি কারণ দেখতে পাই। প্রথমটি হল ভারতীয় প্রতিভা। বিশ্বব্যাপী আপনারা ভারতের মেধার অবদান দেখেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ভারতীয় পেশাদার চিকিৎসক, নার্স, ব্যাংকার, আইনজীবী, বিজ্ঞানী, অধ্যাপক এবং আমাদের পরিশ্রমী কর্মীরা। ভারতীয় প্রযুক্তি শিল্প এবং প্রযুক্তি পেশাদারদের কে ভুলতে পারে? কয়েক দশক ধরে তারা পথ দেখিয়ে চলেছে। ভারত হল প্রতিভার পাওয়ার হাউস যেখানে সবাই অবদান রাখতে আগ্রহী এবং শেখার জন্য প্রস্তুত। এখানে যে দ্বিমুখী  সমন্বয় রয়েছে তা খুবই উপকারী। বৃহস্পতিবার  ইন্ডিয়া গ্লোবাল উইক-২০২০ উপলক্ষে প্রধান অতিথির  ভাষণে তিনি এসব কথা বলে। 

এই অনুষ্ঠানের আয়োজনের জন্য ইন্ডিয়া আইএনসি গ্রুপকে ধন্যবাদ জানান। ‘আজকের এই অনুষ্ঠান বিগত কয়েক বছরে ইন্ডিয়া আইএনসির অসাধারণ কাজেরই একটা অংশ। আপনাদের অনুষ্ঠানগুলি বিশ্বব্যাপী মানুষের কাছে ভারতকে তুলে ধরার সুযোগ করে দিয়েছে। আপনারা ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করেছেন।’

তিনি আরো বলেন, দ্বিতীয় বিষয়টি হল ভারতের সংস্কার ও পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষমতা। ভারতীয়রা প্রাকৃতিক সংস্কারক! ইতিহাস বলে যে, ভারত সামাজিক বা অর্থনৈতিক দিক থেকে প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে অতিক্রম করেছে তার সংস্কার ও পুনরুজ্জীবনের চেতনার মাধ্যমে। এই চেতনা এখনও অব্যাহত রয়েছে। একদিকে ভারত একটি বৈশ্বিক মহামারীর বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই করছে। জনস্বাস্থ্যের পাশাপাশি আমরা অর্থনীতির প্রতিও সমানভাবে গুরুত্ব আরোপ করছি। 

ভারতের পুনর্জাগরণের অর্থ হলো: যত্ন সহকারে পুনর্জাগরণ, সহানুভূতির সাথে পুনর্জাগরণ, পরিবেশ এবং অর্থনীতি উভয়ের জন্যই টেকসই পুনর্জাগরণ। ভারতীয় সংস্কৃতিতে প্রত্যেকে প্রকৃতির উপাসনা করেন। ভারতে বিশ্বাস করা হয় যে, পৃথিবী আমাদের মা এবং আমরা তার সন্তান। গত ছয় বছরে ভারত মোট আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, রেকর্ড আবাসন ও অবকাঠামো নির্মাণ, ব্যবসা সহজীকরণ, জিএসটি সহ ট্যাক্স সংস্কার ইত্যাদি বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে। বিশ্বের বৃহত্তম স্বাস্থ্যসেবা উদ্যোগ-আয়ুষ্মান ভারত প্রচলনের মাধ্যমে ভারত পরবর্তী পর্যায়ে উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপন করেছে। ভারতীয়দের অসম্ভবকে জয় করার স্পৃহা রয়েছে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে ভারতে আমরা ইতোমধ্যে ইতিবাচক সাড়া দেখতে পাচ্ছি। মহামারীর এই সময়ে, আমরা আমাদের নাগরিকদের ত্রাণ সরবরাহ করেছি এবং গভীর কাঠামোগত সংস্কার করেছি। আমরা অর্থনীতিকে আরও উত্পাদনশীল, বিনিয়োগবান্ধব এবং প্রতিযোগিতামূলক করে তুলছি। আমাদের ত্রাণ প্যাকেজটি ছিল আধুনিক যার মাধ্যমে সর্বোচ্চ সংখ্যক দরিদ্র মানুষকে সাহায্য পৌঁছানো ছিল আমাদের লক্ষ্য। প্রযুক্তির কারণেই আর প্রতিটি পয়সা সরাসরি উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছেছে।

ইত্তেফাক/আরকেজি