সুনামগঞ্জ পৌর শহরের জেল রোড সবজি বাজার এলাকায় নদীর তীর ভাঙার অবস্থা আবারো প্রকট আকার ধারণ করেছে। প্রায় ১০ মাস আগে একই স্থানে নদী ভাঙন দেখা দিলে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক ভাঙন এলাকা মেরামত করা হয়। গত ক’দিন ধরে আবারো একই স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদী ভাঙন এলাকা দ্রুত সংস্কারের দাবি স্থানীয় বাসিন্দা ও সবজি ব্যবসায়ীদের।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ সবজি ব্যবসায়ীদের দায়ী করে বলেন, ‘পৌর শহরের জেল রোড এলাকায় বারিক মিয়ার দোকানের পাশে নদীর তীরের ভাঙনে গত মার্চ মাসে ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে মেরামত কাজ হয়েছিল। ওই সময় ব্যবসায়ীদের বলে দেওয়া হয়েছিল ময়লা যাতে ওইখানে না ফেলেন তারা। এ কথা ব্যবসায়ীরা কেউ শুনেননি। তাদের ময়লা ফেলার কারণে পুনরায় নদীর তীরে ধস নেমেছে। এদিকে, নদীর তীরে ভাঙন দেখা দেওয়ায় এবং জনচলাচলের পাকা রাস্তা নদীতে বিলীন হওয়ায় পথচারীরাও দায়ী করছেন সবজি ব্যবসায়ীদের। তারা বলছেন, সবজির ব্যবসায়ীরা ময়লা-আবর্জনা না ফেললে এই স্থানে ভাঙন দেখা দিত না। তাদের ফেলা ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে আবারো এই স্থানে ভাঙন ধরেছে।
জানা যায়, দুই সপ্তাহ আগে থেকে নদীর তীরে ফাটল দেখা দেয়। প্রায় পনেরো দিনের ব্যবধানে ভেঙে ৬ ফুট নিচে নেমে যায় নদীর তীর। ভাঙনের ফলে জেল রোড এলাকার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলামের বাসার সামনের চলাচলের পাকা রাস্তাসহ নদীর তীরের বড় একটি অংশ ভেঙে পড়ে। ভাঙন এলাকার পশ্চিম দিকের বারিক মিয়ার দুইটি দোকান ঘর ভেঙে পড়েছে।
ব্যবসায়ী তরুণ দে, সেজলু, টিপু রজকসহ আরও কয়েকজনের বসতঘর ও দোকান ঘরের বেশকিছু অংশ নদীতে বিলীন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া জেল রোড ফেরিঘাটের পশ্চিমে সবজির বাজারের আরও দুই স্থানে নদীর তীর এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।
ব্যবসায়ী রনি আহমদ, তরুণ দে বলেন, ‘প্রতি বছর নদী ভাঙনের কবলে পড়ি আমরা। নদীর তীরের ভাঙনে আমাদের দোকান ঘর বিলীন হয়ে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। গত বছর এই জায়গায় সংস্কার কাজ হলেও পুনরায় নদী ভাঙনের কবলে পড়েছি আমরা। অন্য বারের ভাঙনের চেয়ে এবারের ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। তাই দ্রুত সংস্কারের দাবি আমাদের।’
সবজির বাজারে আসা পথচারী সাজাউর রহমান বলেন, ‘এই স্থানে একবার নদী তীরে ভাঙন দেখা দেওয়ায় দ্রুত মেরামত কাজ হয়েছে। বার বার ভাঙলে এই জায়গার কাজ হবে না। এখন এই কাজ করে দিতে হবে সবজি বাজারের ব্যবসায়ী যারা প্রতিনিয়ত ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভাঙনের সৃষ্টি করেছেন। আমাদের চলাচলের পাকা রাস্তাও নষ্ট হয়েছে ভাঙনের কবলে পড়ে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিক ভুইয়া বলেন, ‘জেল রোড এলাকায় বারিক মিয়ার দোকানের পাশে নদীর তীরের ভাঙনে গত মার্চ মাসে ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজ হয়েছিল। ওই সময় ব্যবসায়ীদের বলে দেওয়া হয়েছিল ময়লা যাতে ওইখানে না ফেলেন তারা। এ কথা ব্যবসায়ীরা শুনেননি। তাদের ময়লা ফেলার কারণে পুনরায় নদীর তীরে ভাঙন ধরেছে।’
