দাকোপে আমন ধানের দাম কম, দিশেহারা কৃষক

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৩০

আমন ধানের দর পতনে খুলনার দাকোপের বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ধার দেনা এবং ঋণের টাকা পরিশোধ করে পরিবার-পরিজন নিয়ে সারা বছর কি খেয়ে বাঁচবে এ দুঃচিন্তায় এখন কৃষকদের চোখের ঘুম নেই!

এলাকাবাসী ও উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট ১৮ হাজার ৯শ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে উফশী ১৫ হাজার ও স্থানীয়জাত ৩ হাজার ৯ শ হেক্টর। এ অঞ্চলের অধিকাংশ কৃষক প্রধান ফসল আমনের উপর নির্ভরশীল। কৃষকরা ধান বিক্রি করে সারা বছরের ধার-দেনা শোধ করে বাদবাকি ধান বছরের খাবার যোগান দেওয়ার জন্যে গোলায় মজুদ রাখে। এছাড়া ছেলেদের গরম কাপড়, স্কুল-কলেজের খরচ ও জমির খাজনা পরিশোধসহ সাধারণত সারা বছরের সকল ব্যয়ভার বহন করে থাকে। কিন্তু এবছর ধানের দর পতনে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ইতোমধ্যে কোনো কোনো এলাকায় উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান কাটা শেষ হয়েছে। কৃষি অধিদপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ বছর বিআর ২৩, ব্রিধান ৭৬, ৪৯ ধানের ফলন সবচেয়ে বেশি ভালো হয়েছে। ৫০ শতকের বিঘা প্রতি গড় হিসেবে ২৪ থেকে ২৫ মন আর মোটা ধান ১৫ থেকে ১৬ মন ধান পেয়েছেন কৃষকরা।

চালনা পৌরসভার গোড়কাঠি এলাকার কৃষক সুকুমার গোলদার বলেন, তিনি এ মৌসুমে ৩ বিঘা জমিতে আমনের চাষ করেছেন এবং ফলনও পেয়েছেন মোটামুটি ভালো। প্রতি বিঘা জমিতে চাষ, সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি শ্রমিকসহ অন্যান্য সব মিলে প্রায় ৭ থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে তার। তিনি গত বুধবার সাপ্তাহিক হাটের দিন প্রতি মণ ইরি ধান বিক্রি করেছেন ৭শ টাকা মণ আর মোটা ধান সাড়ে ৮শ টাকা দরে। এত কম মূল্যে ধান বিক্রি করে তার লোকসান হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, গতবারের তুলনায় এ বছর ধানের দাম অনেক কম। বিঘা প্রতি যে ধান পেয়েছি তা বিক্রি করে ধার দেনা ও ব্যাংকের ঋণ শোধ করলে এবং খরচ বাদ দিলে হয়তো সমান সমান দাঁড়াবে। সারা বছর পরিবার-পরিজন নিয়ে কি খেয়ে বাঁচব এবং ছেলে-মেয়েদের লেখা পড়ার খরচ কীভাবে যোগাবো সে দুঃচিন্তায় এখন চোখে ঘুম আসছে না বলে জানান তিনি।

ধান ব্যবসায়ী মোঃ নূর নবী হোসেন বলেন, এলাকায় চাল বিক্রির উপর ধানের দাম নির্ভর করে। তাছাড়া বাইরের বড় বড় ব্যবসায়ীরা না আসলে ধানের দাম বাড়ে না। ওই সব ব্যবসায়ীদের গোডাউনে গতবারের ধান মজুদ আছে বলে এবার এলাকায় আসছে না। যে কারণে ধানের দাম বাড়ছে না বলে তিনি মনে করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার ও কৃষিবিদ মোঃ মেহেদী হাসান বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের উত্পাদন অনেক ভালো। তবে যে বছর উত্পাদন বা ফলন ভালো হয় সে বছর দাম কম হয় বলে তিনি মনে করেন।