রাণীনগরে বৃদ্ধি পাচ্ছে সাথী ফসল সরিষার চাষ

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৩১

রাণীনগর উপজেলায় চলতি রবি মৌসুমে উফশী জাতের ২ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে সাথী ফসল হিসেবে সরিষার চাষ করা হয়েছে। মাঠে মাঠে এখন শুধুই হলুদের সমারোহ। অপরদিকে সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে ব্যস্ত মৌ মাছিরা।  মৌ মৌ শব্দে পুরো মাঠ মুখরিত।

কম খরচে বেশি লাভের আশায় কৃষকরা এবার বোরো ধানের জমিতে আগাম এই ফসলের চাষ করেছেন। এবারে কৃষকরা সরিষার উচ্চ ফলনশীল জাত হিসাবে উফশী, টলি-৭ ও সম্পদ এই তিন জাতের সরিষা চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন এলাকার সরিষা চাষিরা। তবে উপজেলায় দিন দিন সরিষার চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

হরিশপুর গ্রামের কৃষক হাসেন সরদার জানান, মূল্য কম হওয়ায় ধানের চাষ করে প্রতি বছরই তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। গত বছরের বোরো ধান এখনো অনেক কৃষকের ঘরে মজুত রয়েছে। তাই বিকল্প পথ হিসাবে অন্যান্য ফসলের মধ্য তিনি সরিষা চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

গোনা গ্রামের কৃষক রহিম উদ্দিন জানান, এ মৌসুমে ধান চাষের উপযুক্ত ১০ বিঘা জমিতে তিনি সরিষার আবাদ করছেন। সরিষা তুলে নিয়ে ওই সব জমিতে তিনি বোরো ধান রোপণ করবেন। এছাড়াও সরিষা উত্পাদনে সার কম প্রয়োগ করতে হয়, সেচ, কীটনাশক ও নিড়ানির প্রয়োজন হয় না। খরচ কম ও স্বল্প সময়ে এ ফসল হয়ে থাকে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় গত বছরের তুলনায় এবছর রেকর্ড পরিমাণ জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। ধানের বাজার খারাপ হওয়ার কারণে কৃষকরা বর্তমানে সরিষাসহ অন্যান্য সাথী ফসল চাষের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। কারণ এসব ফসলে খরচ ও পরিশ্রম কম এবং লাভ বেশি। সরিষার বিভিন্ন রোগ-বালাইয়ে কৃষকদের করণীয় ও তা থেকে সরিষার আবাদ রক্ষার কৌশল  সম্পর্কে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।