সবার আগে ঘুরে দাঁড়াবে চীনা অর্থনীতি

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২০, ২০:২২

শফিকুর রহমান রয়েল

 

অর্থনীতিকে ফের চাঙা করে তুলতে চীন যেখানে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, সে জায়গায় অসংখ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়াটা সত্যিই তাদের চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। আরো খোলাসা করে বললে ১৯৭৬ সালের পর এই প্রথমবারের মতো তাদের অর্থনীতি প্রথম প্রান্তিকে সংকোচনের ঝুঁকিতে পড়ল। তবে আশার কথা হচ্ছে কোভিড-১৯ মহামারিকে তারা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছেন। অভ্যন্তরীণ সরবরাহের ভাঙন প্রায় দূর করে ফেলতে সক্ষম হয়েছেন তারা। এসব বলেছেন ফরাসি ব্যাংক সোসাইটি জেনারেলের অর্থনীতিবিদ ইয়াও ওহেন ও মিশেল লাম।

সরবরাহ শৃঙ্খলা প্রায় ঠিক হয়ে গেলেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা হ্রাসের ক্ষতিটা অন্তত আরো কয়েক মাস স্থায়ী হওয়ার স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সবার আগে চলে এসেছে যে প্রশ্নটা, সেটা হলো বহির্বিশ্বের অভিঘাত কীভাবে সইবে চীন? অন্যান্য বড় অর্থনীতির ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী লকডাউনের নেতিবাচক প্রভাব খুবই দ্রুত ও মারাত্মক আকারে হাজির হবে চীনা অর্থনীতিতে। বিদেশি অর্ডার বাতিলের হিড়িকে শেষ পর্যন্ত তাদের অর্থনীতি যে কোন্ পর্যায়ে গিয়ে ঠেকে, তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে  গেছে অনেক আগেই। পরিণতি কী হতে পারে, সেটি এখনকার ডংগুয়ান শহরের দিকে তাকালে কিছুটা নয়, বেশ ভালোই আঁচ করা যায়। শিল্পসংক্রান্ত তীর্থকেন্দ্র পার্ল নদীর বদ্বীপ ডংগুয়ানের দৃশ্যপটই বদলে গেছে। সারিবদ্ধ খালি দোকান, অধিকাংশ কারখানায় ঝুলছে তালা, অতিমন্দা আন্তর্জাতিক চাহিদার সঙ্গে সংগ্রাম করতে গিয়ে এ কয়মাসেই এই করুণ পরিণতি!

তবে বিখ্যাত অনেক অর্থনীতিবিদের মতে, করোনা সংকট কাটিয়ে ফের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা অনেক বেশি এবং সেটি হবে সবার আগে। অতীত অভিজ্ঞতা এবং সাম্প্রতিক সাফল্য বিবেচনায় আনলে এসব কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। ২০১৯ সালটা ছিল গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার ৭০তম বার্ষিকী। এর আগের ৭০ বছর জুড়েই অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবিস্মরণীয় সাফল্য দেখিয়েছে। ফলশ্রুতিতে জাপানকে হটিয়ে বনে গেছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার অভিজ্ঞতা অর্জনের মূল রহস্য নিহিত তাদের উন্মুক্ততার মাঝে। ১৯৭৮ সালে সংস্কার ও পূর্ণ প্রকাশিত হওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে গেন যে সূচিত হয়েছিল উন্নয়নের যাত্রা, তারপর আর পেছনে তাকানোর প্রয়োজন পড়েনি খুব একটা।

১৯৭৮ থেকে ২০১৯—এ সময়ে চীনের জিডিপি বৃদ্ধির বার্ষিক গড় ৯.৫ শতাংশ প্রায়। প্রতি বছর বৈদেশিক বাণিজ্য বেড়েছে গড়ে ১৪.৫ শতাংশ। প্রকৃত বৈদেশিক পুঁজির সদ্ব্যবহার ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। বহির্মুখী বৈদেশিক বিনিয়োগ বেড়েছে ৪০ গুণেরও বেশি। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সঙ্গত কারণেই এসব রাশি যাতে      না কমে আসে সেজন্য সর্বশক্তি নিয়োগে মোটেই কার্পণ্য             করবে না তারা।

—ইকোনমিক টাইমস অনুসরণে