আনিসুজ্জামান, রাজশাহী
অবিক্রীত টিকিট নিয়ে রেলওয়ের কর্মচারীরা কাউন্টারে বসে থাকলেও বিক্রি করতে পারছেন না। অন্যদিকে চোখের সামনে চলাচল করলেও যাত্রীরা ট্রেনে উঠতে পারছেন না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন ২৫ শতাংশ যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। অর্থাত্ সব ট্রেনের ৭৫ ভাগ আসনই গড়ে ফাঁকা থাকছে। এজন্য যাত্রী ও রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চলাচলকারী ট্রেনের শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রির একতরফা সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অনলাইনে টিকিট কাটতে না পেরে যাত্রীরা রেলভ্রমণ তথা রেলওয়ের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে করে জনমনে চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে রেলওয়ের সুনাম। এছাড়া আন্তঃনগর ট্রেন পরিচালনার খরচও উঠছে না। ফলে দিনদিন বাড়ছে রেলওয়ের লোকসানের বোঝাও। এমতাবস্থায় যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে ট্রেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছাড়ার অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে অবিক্রীত সব টিকিট সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কাউন্টার থেকে বিক্রির দাবি উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, করোনার আগে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ১৭৫টি ট্রেন সারাদেশে নিয়মিত চলাচল করত। দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হলে সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২৬ মার্চ থেকে সারাদেশের মতো পশ্চিমাঞ্চলেও ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে সরকার লকডাউন শিথিল করলে রেল মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে ৩১ মে টানা ৬৬ দিন পর সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সারাদেশে আট জোড়া, পশ্চিমাঞ্চলের চার জোড়া (পঞ্চগড়, লালমনি, বনলতা ও চিত্রা এক্সপ্রেস) ট্রেন চলাচল শুরু হয়। এরপর ৩ জুন সারাদেশে আরো ৯ জোড়া, পশ্চিমাঞ্চলের ছয় জোড়া (মধুমতি, কপোতাক্ষ, বেনাপোল, নীলসাগর, কুড়িগ্রাম ও রূপসা এক্সপ্রেস) ট্রেন চলাচল শুরু হয়। এছাড়া আম ও সবজি পরিবহনের জন্য গত ৫ জুন থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী হয়ে এক জোড়া বিশেষ পার্সেল ট্রেন রাজশাহী-ঢাকা রুটে চলাচল শুরু করে।
সূত্রমতে, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে প্রতিটি ট্রেনের অর্ধেক আসন ফাঁকা (একটির পর একটি অবিক্রীত) রাখা হচ্ছে। এছাড়া সব ট্রেনের শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রির একতরফা সিদ্ধান্তের কারণে আরো অর্ধেক আসন ফাঁকা থাকছে। ফলে কোনো ট্রেনের টিকিটই গড়ে ২৫ শতাংশের বেশি বিক্রি হচ্ছে না। অর্থাত্ প্রতিটি ট্রেনের টিকিটই গড়ে ৭৫ ভাগ ফাঁকা থাকছে। এ ব্যাপারে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার আব্দুল করিম বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ট্রেন ছাড়ার ২৪ ঘণ্টা আগে সব অবিক্রীত টিকিট বিক্রি করলে যাত্রী ও রেলওয়ে লাভবান হবে।
জানতে চাইলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (সিসিএম) আহসানউল্লাহ ভূঁইয়া প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক আসন ফাঁকা রেখেই ট্রেন চলাচলের সত্যতা স্বীকার করেন। তবে অনলাইনে বা কাউন্টারে টিকিট বিক্রির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের এক্তিয়ার হওয়ায় তিনি কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
