বড় আশা করেন না জেমি ডে

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২০, ২১:২৭

সোহেল সারোয়ার চঞ্চল

আরো দুই বছরের জন্য ইংলিশ কোচ জেমি ডের সঙ্গে বাফুফের চুক্তি হয়েছে জুনে। গত দুই বছরে বাংলাদেশের ফুটবল সম্পর্কে জেনেছেন।  ফুটবলের বর্তমান ছবিটাও দেখেছেন। এই জানা এবং দেখার অভিজ্ঞতায় প্রশ্ন করা হয়, বাংলাদেশ যদি বিশ্বকাপ ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে খেলতে চায় তাহলে কত বছর অপেক্ষা করতে হবে? এমন প্রশ্নে জেমি উত্তর দিতে পারেননি।

বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলবে বাংলাদেশ, এমন চিন্তাও করেন না জেমি। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের চেয়ে ভারত মাইলকে মাইল এগিয়ে। তারা আইএসএল আয়োজন করছে, ফুটবল স্ট্রাকচার তৈরি করেছে, তারপরও বিশ্বকাপের মূল পর্ব হতে অনেক দূরে। মূল পর্বে যোগ্যতা অর্জন করার জন্য তারা (ভারত) বছরের পর বছর ধরে ফুটবলের শক্ত ভীত তৈরি করেছে, সময় এবং অর্থ দুটোই ব্যয় করেছে। তারপরও বিশ্বকাপের মূল পর্ব হতে ভারত অনেক পিছিয়ে রয়েছে।’

এই ইংলিশ কোচ আঙ্গুল তুললেন প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর দিকে। বললেন, ‘ক্লাবগুলোকে পেশাদার হতে হবে। সব ক্লাবের একাডেমি থাকতে হবে। যেন  শৈশব থেকেই ফুটবলার গড়ে উঠতে পারে।’ আরো যোগ করে বললেন, ‘বাংলাদেশের দর্শক জয় দেখতে চায়। আমরা তরুণ ফুটবল প্রজন্মকে উন্নতি করছি। যা সাফল্য এনে দেবে, আমার বিশ্বাস।’

গেল দুই বছরের সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন করলে জেমি তার চোখে তিনটি সাফল্যের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘লাওসের বিপক্ষে ড্র করে কাতার ২০২২ বিশ্বকাপ ফুটবল বাছাইয়ে খেলার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের মাঠে ভারতের বিপক্ষে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ। জাকার্তা এশিয়ান গেমস ফুটবলের দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। যা কি না বাংলাদেশ আগে দেখাতে পারেনি।’

জেমির আমলে দুই বছরে ঘুরেফিরে একই মুখ জাতীয় দলে খেলছে। গড়ে ওঠেনি জাতীয় দলের পাইপ লাইন, দ্বিতীয় জাতীয় দল নেই, জাতীয় ‘এ’ দল নেই। জেমি বললেন, ‘জাতীয় দল ছাড়াও আমাদের অনূর্ধ্ব-২৩ দল রয়েছে।’ অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবলাররাই জাতীয় সিনিয়র দলে খেলছেন। এমন কথায় জেমির জবাব, ‘হ্যাঁ তা ঠিক, জাতীয় দলের স্কোয়াডে থাকলেও খুব বেশি ম্যাচও খেলেননি ওরা। অনূর্ধ্ব-২৩ ছাড়াও অভিজ্ঞতা অর্জনরে জন্য মূল দলে আমরা ১৮, ১৯ বছরের খেলোয়াড়ও রাখছি।’

আগামী দুই বছরে বাংলাদেশের টার্গেট কি? ২০০৩ সালে শেষ বার ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এরপর বার বার গ্রুপ পর্ব হতেই বিদায়। জেমি বলেন, ‘সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে টার্গেট করে আমরা এগিয়ে যাব। রয়েছে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল। এছাড়াও আরো খেলা রয়েছে আগামী দুই বছরে। তার আগে দেখতে হবে কারোনা ভাইরাসের কারণে এ বছরটা কেমন যায়।’

বাফুফে বলেছে, টেকনিক্যাল ডাইরেক্টর পল স্মলী জাতীয় দলে কাজ করবেন। যদি জেমি পলকে নিতে চান। কিন্তু জেমি পলকে নিতে আগ্রহী না। জেমি বললেন, ‘আমি আগেও পলের সঙ্গে কাজ করেছি। যখন আমার প্রয়োজন হবে পল অবশ্যই আমাকে সহযোগিতা করবে। জাতীয় দলের আমার কোচিং স্টাফ রয়েছে।’

বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের জেমি বলেছেন, গত দুই বছরে যেভাবে ফুটবলকে সমর্থন দিয়ে গেছে আগামী সময়টাতেও সেটা চাইছেন জেমি। বলেছেন, ‘ট্রফি জয়ের জন্য আমরা কঠোর পরিশ্রম করছি। আশা করি, ট্রফি পেলে দর্শকও সাফল্যের অংশীদার হবেন।’