মূল :জেমস বাল্ডউইন
অনুবাদ :কাজী আখতারউদ্দিন
খলিফা আল-মনসুর ছিলেন সমগ্র আরব জগতের একজন বিখ্যাত শাসক। তিনি কবিতা ভালোবাসতেন এবং কবিদের কণ্ঠে তাঁদের স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি শুনতে পছন্দ করতেন। অনেকসময় কবিতাটি খুব পছন্দ হলে তিনি সেই কবিকে পুরস্কার দিতেন। একদিন থালিবি নামে একজন কবি এসে খলিফাকে একটি দীর্ঘ কবিতা আবৃত্তি করে শোনালেন। আবৃত্তি শেষ করার পর তিনি খলিফার দিকে মাথা নুইয়ে অভিবাদন করে অপেক্ষা করতে লাগলেন এই আশায় যে, তাকে হয়তো পুরস্কৃৃত করা হবে।
খলিফা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি কোনটা চান, তিন শ স্বর্ণমুদ্রা নাকি আমার মুখ থেকে কোনো জ্ঞানের বাণী?’
কবির খুব ইচ্ছা ছিল খলিফাকে খুশি করার। তাই তিনি বললেন, ‘হে আমিরুল মুমেনিন, সম্পদের বদলে সবার বরং জ্ঞানই বেছে নেওয়া উচিত।’
খলিফা মৃদু হেসে বললেন, ‘ঠিক আছে, তাহলে আমার প্রথম জ্ঞানের বাণীটা শুনুন: যখন আপনার পরনের আলখেল্লাটা জীর্ণ হয়ে যায়, তখন এর ওপর একটা নতুন তালি সেলাই করবেন না; এটা দেখতে বিশ্রী লাগবে।’
কথাটা শুনেই কবি গুঙিয়ে উঠলেন, ‘হায় হায়! গেল একশো স্বর্ণমুদ্রা।’
খলিফা মৃদু হাসলেন। তারপর বললেন, ‘এবার আমার দ্বিতীয় জ্ঞানের কথাটা শুনুন: যখন দাড়িতে তেল মাখবেন, তখন খুব বেশি তেল মাখবেন না, কারণ এতে হয়তো আপনার কাপড়ে দাগ লেগে যেতে পারে।’
বেচারি কবি আবার গুঙিয়ে উঠলেন, ‘আরো খারাপ হলো। গেল আরো একশো স্বর্ণমুদ্রা। এবার আমি কী করব?’
খলিফা বললেন, ‘দাঁড়ান, দাঁড়ান, বলতে দিন আমাকে।’ তারপর মৃদু হেসে বললেন, ‘আমার তৃতীয় প্রবাদবাক্যটা শোনাচ্ছি—’
এবার কবি কাঁদো কাঁদো হয়ে চেঁচিয়ে উঠলেন, ‘হে খলিফা, দয়া করুন। তৃতীয় প্রবাদ বাক্যটা আপনার নিজের জন্য রেখে দিয়ে স্বর্ণমুদ্রাটা দয়া করে আমাকে দিন।’
কথাটা শুনেই খলিফা বেশ জোরে হেসে উঠলেন আর তাঁর হাসি দেখে সবাই হেসে উঠল। তারপর তিনি কবিকে পাঁচ শ স্বর্ণমুদ্রা দেওয়ার জন্য খাজাঞ্চিকে হুকুম করলেন। কেননা কবি যে কবিতাটি আবৃত্তি করে শুনিয়েছিলেন, তা আসলে খুবই চমত্কার ছিল।
