হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কমেছে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সমন্বিতভাবে পদক্ষেপ নেওয়ায় সংক্রমণের হার তিন অঙ্ক থেকে দুই অঙ্কের ঘরে নেমে এসেছে। ধীরে ধীরে সংক্রমণের ‘হটস্পট’ থেকে বেরিয়ে আসছে নারায়ণগঞ্জ। শুক্রবার পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নারায়ণগঞ্জে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪৫ জন। মারা গেছেন একজন। গত ২০ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত হিসাবে দেখা যায়, ঐ ১০ দিনে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের এবং সংক্রমিত হয়েছেন ৮৩৯ জন। এর আগে ২০ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের এবং সংক্রমিত হয়েছেন ৯৬৪ জন। ২০ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মৃত্যু হয় ১৬ জনের একই সময় সংক্রমিত হয় ৫২৭ জন।
এ বিষয়ে জেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সদস্যসচিব ও জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ জানান, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কমতে শুরু করেছে। আগে যে অল্পসংখ্যক নমুনা পরীক্ষায় সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ছিল, সেটি এখন কমে আসছে। এখন অধিকসংখ্যক নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে, অথচ সংক্রমিত রোগী কম পাওয়া যাচ্ছে। আইসোলেশনে রোগীর সুস্থতার হারও বেড়েছে। সবশেষ গতকাল বুধবার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যে জানা গেছে, জেলায় এ পর্যন্ত কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে দুই চিকিত্সক, জ্যেষ্ঠ নার্সসহ ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমিত হয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ ২০ চিকিত্সক এবং চার জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ মোট ৫ হাজার ৫০২ জন। আইসোলেশনে সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৭৩৭ জন এবং নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ২৬ হাজার ২৫২ জনের। ৮ মার্চ দেশে প্রথম কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত তিন রোগীর দুজন এই জেলায় শনাক্ত হন। ৩০ মার্চ করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে এক নারীর মৃত্যু হয়। ওটা ছিল জেলায় প্রথম কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু। ৭ এপ্রিল করোনার সংক্রমণের জন্য নারায়ণগঞ্জকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ জেলা হিসেবে চিহ্নিত করে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। ৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলাকে অবরুদ্ধ ঘোষণা করে সরকার।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, সংক্রমণের শুরু থেকে সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ‘হটস্পট’ থেকে ধীরে ধীরে সরে আসছে।
