ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দাবি করেছে, ইসলামিক স্টেট (আইএস) ফের গা ঝাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। করোনা পরিস্থিতিতে সরাসরি সদস্য সংগ্রহের কাজ চালাতে না পারায় এখন অনলাইনে জঙ্গি রিক্রুট করছে তারা। গোয়েন্দা সংস্থার নজর এড়িয়ে অনলাইন কার্যক্রম চালানোর প্রশিক্ষণও দিচ্ছে। গতকাল শুক্রবার ভারতীয় গণমাধ্যম জি নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও জঙ্গি বিশেষজ্ঞ মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশীদ এ প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সবার মধ্যে একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এটার সুযোগ নিয়ে এ দেশেও জঙ্গিরা ডিজিটাল প্ল্যাটফরম বা অনলাইনে তাদের যোগাযোগ রক্ষা করছে, এমনকি সদস্য রিক্রুটিংয়ের কাজটিও চালাচ্ছে। তবে এরা দেশীয় মতাদর্শের জঙ্গি সংগঠন। হয়তো তারা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বা প্রচার পেতে আইএস বা অন্য কোনো জঙ্গি সংগঠনের নাম ব্যবহার করতে পারে।
তিনি আরো বলেন, আইএস মতাদর্শের জঙ্গি কার্যক্রম ভারতের কাশ্মীর এলাকায় পরিচালিত হওয়ার তথ্য আমরা পেয়েছি। সেখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেশ কয়েকটি অভিযানও চালিয়েছে। তবে বাংলাদেশে আইএসের অস্তিত্ব এখনো পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জঙ্গিবিরোধী অভিযানের ফলে দেশে জঙ্গি কার্যক্রম অনেকটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। তবে অনলাইনে জঙ্গি কার্যক্রমের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি করা উচিত।
পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, ২০১৬ সালের ১ জুলাই হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্পরতায় জঙ্গি কর্মকাণ্ড স্তিমিত হয়ে পড়লেও স্বস্তি প্রকাশের কোনো অবকাশ নেই। অবশ্য দেশে জঙ্গিদের মতাদর্শ প্রচারের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। হলি আর্টিজানে হামলার পর দেশের অভ্যন্তরে তারা কোনো সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলতে পারেনি। এজন্য কোনো কোনো জঙ্গি নেতা তার অনুসারীকে ‘লোন উলফ’ হামলার নির্দেশনা দিচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, এই করোনাকালে দেশে অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে জঙ্গিরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আগে ফিজিক্যালি বিভিন্ন দুর্গম এলাকা যেমন চর ও পার্বত্য এলাকায় প্রশিক্ষণ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলেও এখন তারা ডিজিটাল প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে। সেখানে হামলা থেকে শুরু করে আত্মরক্ষার নানা কৌশল শেখানো হচ্ছে। বিশেষ করে নিষিদ্ধঘোষিত হিযবুত তাহরীর ও আনসার আল ইসলাম অনলাইনে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় রয়েছে। এছাড়া মাঝেমধ্যে আল কায়েদা ইন সাবকন্টিনেন্ট (একিউআইএস) নামের জঙ্গি সংগঠনটি অনলাইনে বিবৃতি দিয়ে তাদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। আবার হিযবুত তাহরীর তাদের অবস্থান জানান দিতে মাঝেমধ্যেই ফিজিক্যালি লিফলেট প্রচার করছে।
