আকারে চাঁদের থেকে একটু ছোট। কিন্তু তাতেই রয়েছে পৃথিবীর চেয়ে বহু গুণ বড়সমুদ্র!বৃহস্পতিবার উপগ্রহ ‘ইউরোপা’কে নিয়ে তাই বিজ্ঞানীমহলে জল্পনা তুঙ্গে। সমপ্রতি একটি গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ইউরোপা’র সাগরের পানিপ্রাণের অনুকূল হলেও হতে পারে। তবে কি মানুষের বসবাসযোগ্য তুষারশুভ্র এই উপগ্রহটি? আগে কি এখানের প্রাণের অস্তিত্ব ছিল? এমনই সব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। ইউরোপা’র সমুদ্রটি রয়েছে তার উপপৃষ্ঠে। উপরে বরফের মোটা চাদর। বিজ্ঞানীদের অনুমান, পানিসমৃদ্ধ একাধিক খনিজ রয়েছে এই উপগ্রহে। উপগ্রহের পৃষ্ঠে উপস্থিত তেজস্ক্রিয় পদার্থগুলির বিকিরণে যে উত্তাপ তৈরি হয়েছিল, তাতে হয়তো ওই খনিজগুলো থেকে পানি বেরিয়ে আসে। এ ভাবেই হয়তো বহু বহু সময়কাল আগে তৈরি হয়েছিল সমুদ্র। এখন সেটি লুকিয়ে রয়েছে বরফের স্তরের নীচে। এই বরফের চাদর দেখেই মহাকাশ বিজ্ঞানীদের নজরে পড়েছিল ইউরোপা।
পৃথিবীর বাইরে মহাবিশ্বেপ্রাণ ধারণের অনুকূল গ্রহের সন্ধান চলছে দীর্ঘদিন ধরেই। সেই তালিকায় মঙ্গল, শনির উপগ্রহ এনসেলাডাসের পাশাপাশি নাম রয়েছে ইউরোপারও। বাসযোগ্য কি না সে প্রশ্নে নাসার জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরির এক বিজ্ঞানী বলেছেন, ‘‘যখন সমুদ্রটি তৈরী হয়েছিল, তখন হয়তো বাসযোগ্য ছিল। আমাদের কাছে থাকা তথ্য বলছে, ইউরোপার সমুদ্রের পানি সামান্য অ্যাসিডিক। এতে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও কিছু সালফেট লবণ রয়েছে। যে সব অণূজীবের জীবনধারণের জন্য কার্বন ডাই-অক্সাইড অনুকূল, তাদের অস্তিত্ব অতীতে সেখানে থাকার সম্ভাবনা বলে মনে করা হচ্ছে।’’কিন্তু মানুষের বাসযোগ্য কি না ইউরোপা, সে প্রশ্নের উত্তর মিলতে ঢের দেরি আছে বলে বিজ্ঞানীরা মন্তব্য করেছেন। ইউরোপার সমুদ্র ৬৫ থেকে ১৬০ কিলোমিটার গভীর বলে জানিয়েছেন তারা।
