চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ সিলেটের নৌ-শ্রমিকরা

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২০, ২২:৩৮

সিলেটের বিভিন্ন নৌপথে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে চাঁদাবাজরা। কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ থেকে ছাতক হয়ে সুনামগঞ্জের ভাটি পর্যন্ত বিভিন্ন নদীপথের পয়েন্টে পয়েন্টে চাঁদাবাজদের অত্যাচারে নৌ-শ্রমিকরা অতিষ্ঠ। বালি-পাথর, কয়লা, চুনাপাথরসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনকারী নৌকা, বার্জ, কার্গো চাঁদাবাজদের টার্গেট। চাঁদা না দিলে নৌ-শ্রমিকদের টাকা-পয়সা, মোবাইল, সোলার বাতিসহ মূল্যবান সামগ্রী লুটে নেয় তারা। এমনকি নৌযানের জ্বালানি তেলও বের করে নেয় দুর্বৃত্তের দল। এছাড়া তাহিরপুরে বিভিন্ন পয়েন্টে টোল আদায়ের নামে বড় অঙ্কের চাঁদাবাজি হয়। এর প্রতিবাদে গত সোমবার যাদুকাটার তীরে বিশাল মানববন্ধন হয়।

গত সপ্তাহে নৌ-পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছাতকের কালারুকা ইউনিয়নের দিঘলবন্দ এলাকা থেকে একটি ইঞ্জিন নৌকাসহ চার চাঁদাবাজকে আটক করে। পুলিশ বাদী হয়ে ১৩ জনের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় মামলা করে। নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, চাঁদাবাজি বন্ধে পুলিশ তত্পর। বিগত দিনে উপজেলার প্রায় ২৮টি পয়েন্টে চাঁদাবাজি হতো। তবে এখন প্রশাসন  চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে  জিরো টলারেন্সে।

তবে স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রশাসনের অভিযান সত্ত্বেও পণ্যবাহী নৌযান থেকে ছাতকে প্রতিদিন অন্তত ১০টি স্থান থেকে ৫ লাখ টাকার মতো চাঁদা আদায় হয়। স্থানীয় প্রভাবশালী মহল এর সঙ্গে জড়িত। অভিযানে দু-একজন চাঁদাবাজ ধরা পড়লেও নেপথ্যের নায়করা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। যারা আটক হয় তারা মূলত কমিশন বা বেতনভুক।  পর্দার আড়ালের রাঘববোয়ালরা তাদের ছাড়িয়ে আনে। এক দল চাঁদাবাজ ধরা পড়লে অন্য দলকে কমিশনে চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হয়। ফলে বন্ধ থাকে না নৌপথের চাঁদাবাজি।

ছাতক ও কোম্পানীগঞ্জের সুরমা, চেলা ও পিয়াইন নদীপথে বালু, পাথর, চুনাপাথর ও কয়লা নিতে আসে বাল্কহেড, বার্জ, কার্গো ও ইঞ্জিনচালিত শত শত নৌযান। ভোলাগঞ্জ, শাহ আরেফিন টিলা, বিছনাকান্দি ও লোভাছড়া পাথর কোয়ারিসহ বিভিন্ন কোয়ারি থেকে এসব নৌযান পাথর সংগ্রহ করে। ভারত থেকে চুনাপাথর, বোল্ডার-সিঙ্গেল আমদানি করেও ছাতক নৌবন্দর এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ডাম্পিং করা হয়। আবার ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দেয়। নৌপথের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায়ই চাঁদাবাজদের কবলে পড়তে হয় এসব নৌযানকে। সূত্রমতে ছাতক, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মধ্যবর্তী নৌপথের ইছাকলস, কালারুকা ইউনিয়নের বোবরাপুর, দিগলবন্দ, চেলা নদীর মুখ, থানাঘাট, চাঁদনীঘাট, পেপারমিল ঘাট, নোয়ারাইঘাট, বারকাপন মুক্তিরগাঁও, বউলার মুখ, জামুরায়সহ কয়েকটি পয়েন্টে নৌকা আটকে চাঁদা আদায় করা হয়। শ্রমিকরা জানান, প্রতিদিন শ খানেক ছোট-বড় নৌযান থেকে গড়ে ৪ হাজার টাকা করে চাঁদা তোলা হয়।  

ছাতকে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। গত বছর ১৪ মে রাতে ছাতক শহরের নদীতে চাঁদাবাজি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় সাহাবুদ্দিন নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। গুরুতর আহত হন ওসি মোস্তফা কামাল। কিন্তু এবারও বর্ষায় চাঁদাবাজরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

যাদুকাটায় মানববন্ধন

এদিকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের যাদুকাটা নদীতে বালু পাথরবাহী নৌযান থেকে টোল আদায়ের নামে অতিরিক্ত চাঁদাবাজি হচ্ছে।  প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয় গত সোমবার। পরে বিক্ষোভ মিছিল শেষে বক্তব্য রাখেন মিয়ারচড় বালি পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল গণি, সাধারণ সম্পাদক ফারুক মিয়া, বালি পাথর ব্যবসায়ী সালাম সরদার প্রমুখ। বক্তারা বলেন, টোল আদায়ের নামে লাঠিয়াল বাহিনী প্রতিটি বাল্কহেড নৌকা থেকে ২ থেকে ৪ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে, যেখানে নৌকাপ্রতি ২০০ থেকে ৯৫০ টাকা টোল নেওয়ার কথা।