অভ্যন্তরীণ তিন বিমানবন্দর ডাক্তারের অভাবে বন্ধ

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২০, ২২:৪৬

দীর্ঘ ২ মাস ৭ দিন করোনা ভাইরাসের ঝুঁকির কারণে বন্ধ থাকার পর গত ১ জুন থেকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল শুরু হলেও অভ্যন্তরীণ তিন বিমানবন্দর চালু করা যাচ্ছে না ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী আর স্ক্রিনিং সুবিধার অভাবে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) বারবার অনুরোধেও করোনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী বিমানবন্দর পরিচালনা করার ন্যূনতম সুবিধাদি নিশ্চিত করতে পারেনি স্বাস্থ্য বিভাগ। অভিযোগ উঠেছে, বিমানবন্দরগুলো চালুর ব্যাপারে অনুরোধ আমলেই নেওয়া হচ্ছে না। ফলে দুই শিফটে ছয় জন ডাক্তার, ১২ জন স্বাস্থ্যকর্মী আর স্ক্রিনিং সুবিধার অভাবে চালু করা যাচ্ছে না কক্সবাজার, বরিশাল ও রাজশাহী বিমানবন্দর। চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইটের ওঠানামা নেই। যাত্রীশূন্যতা ও ব্যবস্থাপনার অভাবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এক মাসের বেশি সময় ধরে চলছে না দেশের ভেতর। দুটি বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা ও নভোএয়ার চট্টগ্রাম, সিলেট, যশোর ও সৈয়দপুর রুটে চলাচল করলেও যাত্রীসংকট চলছে। দেশের ভেতরে সবচেয়ে জনপ্রিয় রুট কক্সবাজার চালু করতে না পেরে বিমান সংস্থাগুলো হতাশ। রোহিঙ্গা ক্যাম্প থাকার কারণে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের কক্সবাজারে নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। আর তারা আকাশপথেই চলাচল করেন। কিন্তু বিমান না চলার কারণে তাদেরকে সড়ক পথেই চলতে হচ্ছে।

এদিকে কক্সবাজার বিমানবন্দর চালু না হওয়ায় এর ধাক্কায় দেউলিয়াত্বের শঙ্কায় রয়েছে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্টসহ পর্যটন ব্যবসা। সেখানে প্রতি বছর দেশি-বিদেশি মিলিয়ে অর্ধকোটি পর্যটক আসে। তাদের যাতায়াতে প্রতিদিন দূরপাল্লার অনেক বাস ও ১০-১২টি ফ্লাইট যাতায়াত করে। পর্যটক সেবায় রয়েছে চার শতাধিক হোটেল-মোটেল ও কটেজ এবং কয়েক শ রেস্টুরেন্ট। ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকার কারণে পর্যটকরা কক্সবাজারে যাচ্ছেন না। একই অবস্থা রাজশাহী ও বরিশাল বিমানবন্দরের।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান বলেন, বিমানবন্দরগুলো চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বন্দরগুলোতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মী দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে দফায় দফায় চিঠিও দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরগুলো চালু করতে আমরা প্রস্তুত আছি। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে আইকাও এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী ন্যূনতম স্বাস্থ্য সুবিধা না থাকায় বিমানবন্দর তিনটি চালু করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদাসীনতা সবচেয়ে বেশি দায়ী।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান যে অবস্থা সেখানে অভ্যন্তরীণ অন্য তিনটি রুট চালু হলে যাত্রী বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে ঈদকে সামনে রেখে করোনায় অর্থনৈতিক ক্ষতি কিছুটা হলেও কাটিয়ে ওঠা যাবে। এদিকে গত ১ জুন ঢাকা থেকে সিলেট, চট্টগ্রাম, সৈয়দপুর ফ্লাইট চলাচল চালু হলে বাংলাদেশ বিমান প্রথম দুই দিন যাতায়াত করে। ৪ জুন থেকে যাত্রী কম হওয়ার অজুহাতে বন্ধ করে দেয় অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট। পরে বিমান সিদ্ধান্ত নেয় তারা চার্টার্ড আকারে ঘণ্টা হিসাবে ফ্লাইট ভাড়া দিবে। তবে এই চার্টার্ড ফ্লাইটেও খুব সাড়া মিলছে না।