ফজলে ইলাহী স্বপন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রথম দফা বন্যা পরিস্থিতি কাটতে না কাটতেই দ্বিতীয় দফা বন্যার আশঙ্কায় কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলের মানুষ আতঙ্কিত। অনেক পরিবার ঘরবাড়িতে ফিরতে না ফিরতেই আবারও নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার চিন্তা শুরু করেছে। বন্যার পানি নামতে না নামতেই মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় আবারও নতুন করে বিপত্সীমা ছুঁয়েছে ধরলা ও তিস্তার পানি। ব্রহ্মপুত্রসহ অন্য নদনদীর পানিও বিপত্সীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, উজানে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েক দিন জেলার সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে মধ্য জুলাইয়ে জেলার নদনদী অববাহিকায় আবারও একটি মাঝারি বন্যা দেখা দিয়ে তা ৭-১০ দিন স্থায়ী হতে পারে।
সরেজমিনে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ধরলা অববাহিকার ভোগডাঙ্গা এবং যাত্রাপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার চরাঞ্চলগুলোতে দেখা যায়, অনেক ঘরবাড়ি থেকে এখনো বন্যার পানি ঠিকমতো নামেনি। তার ওপর আবারও নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে পানি। প্রথম দফা বন্যায় কুড়িগ্রামে ৯ হাজার ৭৮৯ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলাসহ রাজারহাট, ভূরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী, উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার অর্ধশতাধিক ইউনিয়নের চরাঞ্চলের মানুষ নতুন করে বিপাকে পড়েছেন। পরিবার পরিজন ও গবাদি পশুর খাবারের চিন্তায় তারা উদ্বিগ্ন। কুড়িগ্রাম সদরের ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের ধরলা অববাহিকার বড়াইবাড়ী এলাকার শমশের আলী (৫০) ও আউয়াল চকিদার (৬০) জানান, বাহে বানের পানি এলাও ঠিকমতো নামেই নাই, তাতে ফির পানি বাইরব্যার নাগছে। কোনো কাজ কাম তো নাই, ঘরে খাবারও নাই। যে সামান্য ত্রাণ পাইছিলোং তা শ্যাষ। নতুন করি বান শুরু হইলে পরিবার পরিজন ও গরু-ছাগল নিয়া কই যামো। সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের ঝুনকার চরের আমির হামজাসহ (৫৫) চরাঞ্চলের আরো অনেকে জানান, বন্যার পানি নামতে না নামতেই আবারও বাড়তে শুরু করেছে।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ পর্যন্ত জেলায় ৫ হাজার ৮৪০ হেক্টর পাট, ৫৩২ হেক্টর বীজতলা, ১ হাজার ৯৫৫ হেক্টর আউশ ধান, ৮৬০ হেক্টর সবজিসহ ৯ হাজার ৭৮৯ হেক্টর জমির ফসল তলিয়েছে। আক্রান্ত জমির পরিমাণ আরো বাড়ছে।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম জানান, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। খাদ্যসহায়তা হিসেবে চাল ও শুকনো খাবারসহ শিশুখাদ্য সরবরাহের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও গবাদি পশুর খাদ্যসহায়তা দেওয়ার জন্যও বরাদ্দ পাওয়া গেছে যা প্রয়োজন সাপেক্ষে বণ্টন করা হবে।
