‘ধুর’ পাচারের সিন্ডিকেট সক্রিয়
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
করোনা মহামারির মধ্যে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মানুষ পারাপার বেড়েছে। প্রায়ই বিজিবির হাতে সীমান্ত পারাপারের সময় লোক ধরা পড়ছে। ‘ধুর’ পাচারের একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে সীমান্ত এলাকায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে।
বিজিবির খালিশপুর-৫৮ ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক নজরুল ইসলাম খান জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্যামকুড় সীমান্ত এলাকার একাশিপাড়ার রাস্তা হতে ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের পর ৯ জনকে আটক করে বিজিবি। আটককৃতরা হচ্ছে—সুমন হাওলাদার, শুভংকর দেওয়ান, দেব দেওয়ান, স্বরদিনী দেওয়ান, বুলু রানী দাস, সাধনা মালু, পান্না বেগম, ফাতেমা বেগম ও বিপ্লব শেখ। তারা শ্যামকুড় সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তাদের থানায় সোপর্দ করা হয়।
গত মঙ্গলবার রাতে বাঘাযাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশকালে জিরো লাইনের কাছে একটি মেহগনি বাগানের ভেতর হতে ১৪ জনকে আটক করে বিজিবি। তারা হচ্ছে— মাগুরার শালিখা উপজেলার টিওরখালী গ্রামের অমিয় বিশ্বাস, অখিল বিশ্বাস, চঞ্চলা বিশ্বাস, সৃষ্টি বিশ্বাস, অর্পিতা বিশ্বাস, অসিম বিশ্বাস, সুন্দরী বিশ্বাস, বৃষ্টি বিশ্বাস, টাপুর বিশ্বাস, অর্ণব বিশ্বাস, অপূর্ব বিশ্বাস, ঐশী বিশ্বাস ও শান্তনা বিশ্বাস। গ্রেফতারের পর তাদেরকে মহেশপুর থানায় সোপর্দ করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে বাঘাডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার সময় ১০ জনকে আটক করে বিজিবি। তাদের জিরো লাইনের কাছ থেকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে তিন জন পুরুষ, চার জন নারী ও দুই জন শিশু রয়েছে। খালিশপুরের বিজিবির ৫৮ ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক নজরুল ইসলাম খান জানান, আটককৃতদের মহেশপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, বাঘাডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে এর আগেও অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের সময় বিজিবির হাতে আটকের ঘটনা ঘটেছে। এ সীমান্তে মানুষ পারাপারের একটি সিন্ডিকেট আছে। তারা মানুষ যোগাড় করে এনে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারে সহায়তা করে। ভারত ও বাংলাদেশে এ সিন্ডিকেটের লোক আছে।
বিজিবির খালিশপুরের-৫৮ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল কামরুল আহসান জানান, অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার ঠেকাতে বিজিবি কঠোর অবস্থানে আছে। টহলও জোরদার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার একজন দালালকে আটক করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
