স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির জন্য ইহা ভালো নহে

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২০, ২১:৫১

দেশের প্রতিটি জেলার বেশ নান্দনিক ওয়েবসাইট রহিয়াছে। জাতীয় তথ্য বাতায়নের আওতায় দেশের ৬৪টি জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্য হইতে শুরু করিয়া সংশ্লিষ্ট জেলার চলমান কর্মকাণ্ড, ই-সেবা, কোভিড-১৯ লইয়া তথ্য, ত্রাণের কার্যক্রম প্রভৃতি প্রকাশের সুযোগ রহিয়াছে। ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা বরাদ্দ লইয়া করোনার প্রথম দিকে চাউল চুরির অসংখ্য ঘটনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পাইয়াছিল। ইতিপূর্বে দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণের জন্য চাউল ও অন্যান্য সহায়তার অপব্যবহারে জড়িত থাকিবার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিডি) ৯৯টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বরখাস্ত করিয়াছিল। পরবর্তী সময়ে যে কোনো প্রকারের ত্রাণ কিংবা সহায়তা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনিতে সরকার জেলা তথ্য বাতায়নের ডিজিটাল প্ল্যাটফরমগুলি কাজে লাগাইবার পরিকল্পনা করে। এমতাবস্থায় জেলা ওয়েবসাইটে ত্রাণসহায়তার তথ্য যথাসময়ে উল্লেখপূর্বক উহা হালনাগাদের নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে। একটি জাতীয় ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত এই সংক্রান্ত প্রতিবেদনে জানা গিয়াছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় দীর্ঘদিন ধরিয়া জেলা প্রশাসকদের জেলা ওয়েব পোর্টালগুলিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করিবার জন্য তথ্য প্রকাশের অনুরোধ করিয়া আসিতেছে।

দুঃখের বিষয় হইল, দেশের অর্ধেক জেলা প্রশাসন সরকারি এই আদেশ অগ্রাহ্য করিতেছে। ইহাতে নিঃসন্দেহে স্বচ্ছতার জন্য সরকারের গৃহীত একটি ভালো উদ্যোগকে অবহেলা করা হইতেছে। গত ৭ জুলাই পর্যন্ত সমগ্র জেলার ওয়েব পোর্টালগুলির মধ্যে কেবল ৩০টি জেলা প্রশাসনের তথ্য বাতায়নে ত্রাণ বরাদ্দ ও বিতরণ সম্পর্কিত তথ্য রহিয়াছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, সরকারের ভালো সিদ্ধান্তগুলি প্রায়শই অকার্যকর থাকে এবং জনস্বার্থ ক্ষুণ্ন করা হয়। প্রকৃতপক্ষে সরকারের জনপ্রতিনিধিদের পাশ কাটাইয়া প্রধানত প্রশাসন দিয়াই সকল কিছু করাইতে চাহিবার প্রবণতার মধ্যে এই সমস্যা লুকাইয়া রহিয়াছে বলিয়া অনেকে মনে করেন। তবে ৩০টি জেলা ওয়েব পোর্টালে ত্রাণ পুনরায় বিতরণের তথ্য রহিয়াছে। এই ৩০টির মধ্যে আটটির পোর্টাল যথাক্রমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাঙ্গামাটি, মৌলভীবাজার, মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও পঞ্চগড় উপজেলায় ত্রাণ পুনরায় বিতরণের বিস্তারিত তথ্য রহিয়াছে। ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করিতে যেই সকল জেলা প্রশাসক সরকারের আদেশটি অনুসরণ করিয়াছেন তাহাদের ধন্যবাদ জানাইতেই হয়। অন্যদিকে যাহারা তথ্য প্রদান করেন নাই, তাহাদের মধ্যে রাজবাড়ী ও ঠাকুরগাঁওয়ের পোর্টালগুলিতে যথাক্রমে ২৫ এপ্রিল ও ২৬ মার্চের পরে ত্রাণসংক্রান্ত কোনো তথ্যই আপডেট করা হয় নাই।

আমরা ইতিপূর্বে বলিয়াছি, তথ্য বাতায়নে করা বাংলাদেশের সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ওয়েবসাইটগুলি দিনের পর দিন হালনাগাদ হয় না। সাধারণভাবে বলিতে গেলে দেশের ওয়েবসাইটগুলির মধ্যে সরকারি সাইটগুলিই সবচাইতে অধিক ব্যয়বহুল। সাইটগুলির তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ না হইবার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতার অভাব বলা যায়। জনগণের প্রতিনিধিদের পাশ কাটাইয়া সকল কিছু প্রশাসনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করিবার প্রবণতাও কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রশাসনের লোকদের দায়িত্বহীন ও স্বেচ্ছাচারী করিয়া তুলিতেছে বলিয়া অনেকে মনে করেন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির জন্য ইহা ভালো নহে।