নারায়ণগঞ্জে গণপরিবহনে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২০, ২১:৫৭

করোনার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করেই চলছে গণপরিবহন । তাছাড়া করোনা দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে গণপরিবহনের ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ালেও যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে পূর্বের ভাড়ার প্রায় দ্বিগুণ। এমন পরিস্থিতিতে বিপাকে যাত্রী সাধারণ। সরেজমিনে দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জ থেকে ছেড়ে যাওয়া কিংবা নারায়ণগঞ্জে আগত বাসগুলোর বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। প্রথম দিকে বাসস্ট্যান্ডগুলোতে পরিবহন শ্রমিকরা যাত্রীদের জীবাণুনাশক ব্যবহারে উদ্যোগী হলেও বর্তমান চিত্র অনেকটাই ঢিলেঢালা। আর জীবাণুমুক্তকরণ টানেল স্থাপনের বিষয়টি এখনো খাতাকলমে। ফলে শহর ও জেলার অন্যস্থানেও পরিবহন খাত ফিরে যাচ্ছে পুরান চিত্রে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির ঝুঁকি ত্বরান্বিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে ।

করোনা দুর্যোগের একটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে সংশ্লিষ্ট খাতের শ্রমিক ও যাত্রীরা উভয়ই তা স্বাগত জানান। সেই মোতাবেক বাস ছাড়ার আগে স্ট্যান্ডেই শ্রমিক ও যাত্রীদের জীবাণুমুক্তকরণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। কথা ছিল জীবাণুমুক্তকরণ টানেল স্থাপনের। নির্দেশনা দেওয়া হয় মোট আসনের অর্ধেক খালি রেখে যাত্রীদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার। আর পরিবহন খাতের সে ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হয় প্রচলিত ভাড়ার চেয়ে ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে। নিরাপদ দূরত্ব নিশ্চিত হওয়ার প্রত্যাশায় যাত্রীরাও স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে দিচ্ছেন বাড়তি ভাড়া । অথচ শহরের খানপুর আন্তঃজেলা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী ও বাস শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য কোনো টানেল স্থাপন করা হয়নি এ পর্যন্ত। নারায়ণগঞ্জ থেকে চট্টগ্রাম রুটে যে সকল বাস চলে সেগুলোতে শুরুর দিকে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মানার প্রবণতা থাকলেও বর্তমানে তা নেই বললেই চলে। বাসের কর্মীদের অনেকের মাস্ক নেই। আর কারো কারো থাকলেও তা সঠিকভাবে ব্যবহারের দিকে নজর নেই। তার ওপর বর্ধিত ৬০ শতাংশ ভাড়া আদায় করার কথা থাকলেও নেওয়া হচ্ছে দ্বিগুণ ।

সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, করোনার এই সময়ে যাত্রী একেবারেই কম। তার ওপর আবার এক আসন ফাঁকা রাখতে হচ্ছে। যে ভাড়া উঠে তাতে দৈনিক জমা ও স্টাফদের মজুরি দেওয়াই হয়ে উঠে না। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেনিন চৌধুরী বলেন, গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে কি না সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। এ বিষয়ে পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা জানান, গণপরিবহনে সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মানার বিষয়ে পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বিভিন্ন রুটে কমিটি করে দেওয়া আছে। তারাই এগুলো দেখাশোনা করছেন। যে অভিযোগগুলো করা হয়েছে সে বিষয়ে আমরা খতিয়ে দেখছি। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সবাইকে গাড়ি চালাতে বলা হয়েছে। গাফিলতির কারণে যদি এ বিষয়ে প্রশাসন গাড়ির স্টাফদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় তাহলে আমাদের কোনো দায়-দায়িত্ব থাকবে না।