শক্ত হাতে ধরা উচিত বলে মনে করেন পরিকল্পনামন্ত্রী
ইত্তেফাক রিপোর্ট
সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ায় বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। কোথাও কোথাও বিমান যোগাযোগ বন্ধ। ইউরোপের দেশ ইতালি আগামী তিন মাস বাংলাদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ব বাণিজ্যে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল শনিবার ঢাকা চেম্বাব অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) এক আলোচনা সভায়ও ইস্যুটি উঠে এসেছে। ঐ আলোচনায় উপস্থিত পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানও এ বিষয়টিতে ইঙ্গিত করে বলেন, কিছু ব্যক্তির কাজের কারণে ভাবমূূর্তি সংকট তৈরি হতে পারে। এটি বন্ধ করতে দায়ীদের শক্ত হাতে ধরা উচিত বলেও মত দিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের ফুটো এখন বন্ধ করা প্রয়োজন।
‘বেসরকারি খাতের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যত্ প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক ঐ আলোচনায় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি অর্থনীতিবিদরাও তাদের মতামত তুলে ধরেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদ।
আলোচনায় অংশ নিয়ে ডিসিআইর সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম খান বলেন, মেডিক্যাল রিপোর্ট (করোনার) মিথ্যা হওয়ায় আমাদের ভাবমূর্তির ওপর আঘাত নিয়ে আসবে। এটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমাদের লজ্জায় ফেলে দেবে। আমরা যতই উন্নতি করি, যদি বৈশ্বিক এরিয়াতে (এই কারণে) যদি প্রবেশ করতে না পারি—তবে অর্থনীতি বাধাগ্রস্ত হবে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্যবসায়ী নেতারা করোনার এই ব্যতিক্রম পরিস্থিতিতে দেশের সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আনার লক্ষ্যে ব্যবসা সম্পর্কিত বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা পর্যালোচনা করে সংস্কারের দাবি জানান। বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছু ক্ষেত্রে করের ভার ও নতুন শর্ত কিংবা বাধ্যবাধকতা আরোপ করায় নিজেদের অসন্তোষের কথা জানান। তারা বলেন, এনবিআরের (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার কারণে আবার ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ তৈরি হবে। ডিসিসিআইর সাবেক সভাপতি হোসেন খলেদ বলেন, এই দেশে করের হার সবচেয়ে বেশি। অগ্রিম আয়কর ব্যবস্থা পৃথিবীর কোথাও নেই, কিন্তু এখানে আছে।
সংগঠনের আরেক সাবেক সভাপতি আফতাব-উল ইসলাম বলেন, এই বৈশ্বিক মহামারি অবস্থায় এনবিআরকে বিশাল রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। এখন ‘অত্যাচার’ চালাবে আমাদের ওপর। এক দিকে বলছি, বাঁচাতে হবে—অন্য দিকে টেনে ধরে রাখছি।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ ড. মাশরুর রিয়াজও বাংলাদেশ করহার অনেক বেশি বলে মন্তব্য করেন। প্রতিবেশী ও প্রতিযোগী দেশগুলোর করহার ব্যবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, এত বেশি হারে করহার হলে বিনিয়োগ আনা কঠিন। অর্থনীতিকে স্বাভাবিক অবস্থায় নিতে হলে মধ্যমেয়াদি কৌশল নেওয়া ছাড়াও বৈদেশিক বিনিময় হার, বিরোধ নিষ্পত্তি, কোম্পানি আইনের মতো বিষয়গুলোকে বাস্তবতার নিরিখে সংস্কারের পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে ধুঁকতে থাকা আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে কঠোর হওয়ারও পরামর্শ দেন।
শামস মাহমুদ অপেক্ষাকৃত ছোট উদ্যোক্তাদের প্রণোদনার আওতায় ঋণ পাওয়া সহজ করতে ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম চালু করার পাশাপাশি আর্থিক খাত তদারকির লক্ষ্যে ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর অ্যাডভাইজরি কমিটি (এফএসএসি) গঠনের তাগিদ দেন।
এ সময় পরিকল্পনামন্ত্রী করোনা পরিস্থিতির সহসা উত্তরণ না হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে এর সঙ্গে মানিয়ে চলার ওপর গুরুত্ব দেন। করোনাকে এক ধরনের নির্বষ সাপের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, এটিকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের বাস করতে হবে। এখন এই চিন্তা করতে হবে।
